নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯১১ সাল। ব্রিটিশ ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে বশ মানিয়ে আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন মোহন বাগান। বুট পরিহিত গোরাদের বিরুদ্ধে শিবদাস, বিজয়দাসদের খালি পায়ের সংগ্রাম স্থান পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ফুটবল মাঠে ব্রিটিশ বধের সেনানীরা হয়ে উঠেছিলেন জননায়ক। শতাব্দীপ্রাচীন গঙ্গাপাড়ের ক্লাবেই এখন ঘোর কলি। নিরাপত্তার ধুয়ো তুলে এসিএল টু-এর ম্যাচ খেলতে ইরান যায়নি মোহন বাগান। ফল মিলেছে হাতেনাতে। এসিএল থেকে মোলিনা ব্রিগেডকে ছেঁটে ফেলেছে এএফসি। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, নির্বাসন অনিবার্য। শুধু তাই নয়, নিশ্চিত মোটা টাকা জরিমানা। শাস্তি এড়াতে ক্যাসে দরবার করেছিল সবুজ-মেরুন ম্যানেজমেন্ট। তা ধোপে টেকেনি। অথচ ম্যানেজমেন্ট নির্বিকার। সোশ্যাল সাইটে শুভ বিজয়ার বার্তা পোস্ট করে চিড়ে ভেজানোর প্রয়াস জারি। আসলে তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। ফুটবলকে ফাঁকি দেওয়াটা মোহন বাগানের ঐতিহ্য নয়। রিলসের বদলে লড়াই দেখতে চান সমর্থকরা। কর্তাদের ভূমিকাও তাই কাঠগড়ায়। সামাজিক মাধ্যমে কমিটির এক শীর্ষ কর্তার পোস্ট ঘিরে জোর জল্পনা। তবে কি ইরান না যাওয়ার কথা জানতেনই না কর্তারা?
দায় কার? কর্তা, থিঙ্কট্যাঙ্ক, ফুটবলার— প্রশ্নের উর্ধ্বে নন কেউই। গত ১৫ আগস্ট ঘটা করে এসিএল টু-এর সূচি ঘোষিত হয়। তারপর হাওড়া ব্রিজের নীচ দিয়ে অনেক জল বয়েছে। জেগে ঘুমিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে মর্যাদা খুইয়ে। বাস্তবের সঙ্গে তাঁদের যোগ কম। সিইওর কথাই ধরুণ। কয়েক বছর আগেও জানতেন না, ফুটবল গোল না চৌকো! নিরাপত্তারক্ষীর ঘেরাটোপে আসেন প্র্যাকটিসে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আশীর্বাদ মাথায়। তাঁকে চটায় সাধ্য কার! আসলে গত কয়েক বছরে সবুজ-মেরুন শিবিরে কেষ্ট-বিষ্টুদের বাড়বাড়ন্ত! ইস্ট বেঙ্গলে ঘাড়ধাক্কা খাওয়া এক সিকি কর্তাও এখানে বাসা বেঁধেছেন। কান পাতলে শোনা যায়, বাজারে তাঁর দেনার পাহাড়। অথচ হম্বিতম্বিই সার। বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বেশি দড়। কর্পোরেট গুডউইল নষ্টের জন্য গুটকাখোর মোসাহেবরাই যথেষ্ট।
এর আগে জেসন কামিংস ইস্যুতে মুখ পুড়েছিল। ট্রান্সফার ব্যানও হয় মোহন বাগানের। প্রয়োজন ছিল আত্মসমালোচনার। বদলে দেমাগের চোরাবালিতে ডুবছে ম্যানেজমেন্ট, যাদের কাছে ঘরোয়া লিগ গুরুত্বহীন। প্রি-সিজন শুরু দেরিতে। ডুরান্ডে সমস্যা ফিটনেসের। বিদেশি ফুটবলাররা আনফিট। শরীরে বাড়তি মেদ প্রকট। সমালোচনায় ডোন্ট কেয়ার। উদাহরণ মজুত হাতের সামনে। দল গাড্ডায়। সতীর্থরা চাপে। এরই মধ্যে কোরিয়ায় বেড়ানোর ছবি সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করেছেন জেসন কামিংস। ম্যানেজমেন্টের মতো তিনিও আছেন আরামসে। আসলে ওঁরা ভুলেছেন যে, এটা ময়দান। আর এখানে কোনওকিছুই স্ট্যাটিক নয়।