Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গালি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন ‘অসুস্থ’ কেষ্ট, আজ ফের তলব

বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি।

গালি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন ‘অসুস্থ’ কেষ্ট, আজ ফের তলব
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি। এই ঘটনায় শনিবার পুলিসের কাছে হাজিরা এড়ালেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিস দিয়েছিল পুলিস। কিন্তু, তিনি হাজিরা দেননি। ফের তাঁকে নোটিস দিয়ে আজ, রবিবার এসডিপিও অফিসে তলব করা হয়েছে। পুলিস আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫, ১৩২, ২২৪ ও ৩৫১ ধারায় হুমকি প্রদর্শন, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মীকে হেনস্তা, শ্লীলতাহানির মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে ৭৫ ও ১৩২ ধারা দু’টি জামিন অযোগ্য। এদিন তিনি থানায় হাজিরা দেন কি না, সেদিকে সকলের নজর ছিল। কিন্তু, তাঁর পরিবর্তে এদিন চারজন আইনজীবী এসডিপিও অফিসে যান। যাওয়ার সময় তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্ট মণ্ডল শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এদিনের হাজিরা এড়িয়েছেন। যদিও এদিন তিনি বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি, গ্রেপ্তারি এড়াতেই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। এদিন বিজেপির মহিলা মোর্চা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। মল্লারপুরে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। তারা পুলিসকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সূত্রের খবর, এই পর্বেই কাল সোমবার জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন কেষ্ট মণ্ডল। 
প্রসঙ্গত, নানুরে তাঁর এক অনুগামীকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন অনুব্রতবাবু। পাশাপাশি বোলপুর থানার আইসির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও তোলেন। সেই সব অভিযোগকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার নাগরিক কমিটির নামে বোলপুর থানা ঘেরাও কর্মসূচি নেন কেষ্টবাবু। তারপরই কেষ্ট মণ্ডল ও আইসির কথোপকথনের একটি অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে আইসি, তাঁর মা ও স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। আইসির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ সিং জানিয়েছিলেন এই ঘটনায়, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তাঁকে চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে।
দলের নির্দেশের পরে কেষ্টবাবু পুলিস কর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি লিখে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে কেষ্ট ক্ষমা চাইলেও, পুলিস কড়া মনোভাব নিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কেষ্ট মণ্ডল ও আইসির মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। আইনি জটিলতা এড়াতে, আগামী কাল সোমবার আদালত থেকে জামিন নিতে পারেন কেষ্টবাবু, এমনটাই তাঁর অনুগামীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ