Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্রীভগবান

শ্রীভগবান অবশ্যই তোমাদের মঙ্গল করবেন। তিনি তোমাদের হাত ধরে আছেন। কারণ তিনি নিজেও যে বলেছেন, যাদের শেষ জন্ম তাদের এখানে আসতেই হবে। তোমরাও আস্থা রাখো, বিশ্বাস করো। ভগবানকে মনে প্রাণে ডাক—এটাই যেন তোমাদের শেষ জন্ম হয়। এটুকু করো। বাকিটা তিনি করবেন।

শ্রীভগবান
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীভগবান অবশ্যই তোমাদের মঙ্গল করবেন। তিনি তোমাদের হাত ধরে আছেন। কারণ তিনি নিজেও যে বলেছেন, যাদের শেষ জন্ম তাদের এখানে আসতেই হবে। তোমরাও আস্থা রাখো, বিশ্বাস করো। ভগবানকে মনে প্রাণে ডাক—এটাই যেন তোমাদের শেষ জন্ম হয়। এটুকু করো। বাকিটা তিনি করবেন। তোমরা এক পা এগোও, তিনি দশ পা এগিয়ে তোমাদের কোলে তুলে নেবেনই নেবেন। দীক্ষা দানের পরে দীক্ষিত ভক্তদের স্মরণ করিয়ে দিতেন যে—‘আজ থেকে সর্বদা মনে রাখবে তোমাদের ইষ্ট দেবতা তোমাদের হৃদয়ে বসে আছে। তাঁর প্রতি খেয়াল রাখবে।’

Advertisement

বাস্তবে তুমি যথেষ্ট ভাগ্যশালিনী। তোমার ইষ্টদেবতা আমাদের এই শতকোটির অধিক জনসমুদায়ের মধ্য থেকে তোমাকে স্বীকার করেছেন, তোমাকে ওনার নামমন্ত্র জপ করার অধিকার প্রদান করেছেন। অবশ্যই এটা তোমার সৌভাগ্যের দ্যোতক। কিন্তু চিঠিতে তোমার বিষয়াসক্তির বিষয়ে যা কিছু লিখেছো, ওটা আমার অরুচিকর মনে হয়েছে। তুমি তো চরাচরে ব্যাপ্ত তাঁর মহিমা সম্পর্কে জানোই। তাঁর কৃপা-কটাক্ষমাত্র হাজার যুগের সঞ্চিত মলিনতা ক্ষণমাত্রে দূর হয়ে যায়— যেমন একটি প্রদীপের শিখা হাজার বছরের সঞ্চিত অন্ধকার দূর করে দিতে সমর্থ হয়।
নিজের দৈনন্দিন কার্যকলাপকে ভগবৎপুজা জ্ঞানে পরিচালিত করো। এটাতে তোমার সবরকম সংস্কার শুদ্ধ হবে, তোমার মনও ঈশ্বরপরায়ণ হবে এবং তুমি ভগবদ্দর্শনের যোগ্যতা অর্জন করবে।
পঁচাত্তর বছর হয়ে গেছে এখন যতক্ষণ সম্ভব রাত-দিন অবিরাম প্রভুর নাম জপ করার চেষ্টা করো। বই ও পত্রিকাতে এখন আর কি পাবে? ১০-২০ বছর এখনও সময় আছে, প্রভুর নাম জপ করতে থাকো। সংসারের যাবতীয় কামনা বাসনা, এমনকি শান্তির কামনাও শ্রীশ্রীপ্রভুর পাদপদ্মে সমর্পণ করে দাও। তুমি মঠে প্রবেশ করেছো, এখন তোমার প্রথম কর্তব্য হল শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা, আমাদের স্বামীজী মহারাজ এবং ওনার গুরুভাইদের জীবন এবং উপদেশগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া, যেমন লোকে মন্দিরে প্রবেশ করার আগে গঙ্গাস্নান করে। তারপর সংস্কৃত ভাষা রপ্ত করার চেষ্টা করো। শ্রীশ্রীমায়ের অতিরিক্ত এই সংসারের কোন অস্তিত্ব নেই, আর তুমি বলছ মা-ই রক্ষাকর্ত্রী ইত্যাদি। জগতের আশ্রয়ই মা, সৃষ্টি, স্থিতি, সংহারকর্ত্রী মা-ই আছেন, ওনার মধ্যে তোমার, আমার সবার সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার আশ্রিত আছে। যা কিছু হয়েছে মায়ের আশ্রয়ে থেকেই হয়েছে। 
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ