মুল্লানপুর: ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপে ভারতকে ফাইনালে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দু’টি শতরান সহ ১১ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫৩০ রান। কিন্তু মেগা আসরের পরেই শ্রেয়স আয়ারের কেরিয়ার ঢাকা পড়ে আশঙ্কার কালো মেঘে। ঘরোয় ক্রিকেট না খেলায় বোর্ডের রোষের মুখে পড়েন। তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রেয়স যে যোদ্ধা! হার মানা তাঁর অভ্যাসে নেই। তাই সেই ঘরোয়া ক্রিকেটেই প্রমাণের মঞ্চ বেছেছিলেন তিনি। সেখানে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মেলে ধরে জাতীয় দলে ফেরেন। আর সদ্যসমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টিম ইন্ডিয়াকে ট্রফি জেতানোরও অন্যতম নায়ক তিনি।
ব্যর্থতার কানাগলি থেকে ফের সাফল্যের রাজপথের সফর শ্রেয়সকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, কঠিন সময়ে বন্ধু চিনতে পেরেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে তাঁর বক্তব্য, ‘খারাপ সময়ে খুব কমজনকেই পাশে পেয়েছি। নাম ধরেই বলে দিচ্ছি— প্রভীন আমরে স্যার ও অভিষেক নায়ার। আর এক জনের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, আমার ট্রেনার সাগর।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘শুধু এখন নয়, যে কোনও দুঃসময়ে এই তিনজন পাশে ছিলেন। এমন মানুষদের সান্নিধ্যই তো প্রয়োজন। আর খারাপ সময় কিংবা প্রত্যাখ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আমি মনে করি, দুঃসময় থেকে তোমায় যদি কেউ টেনে তুলতে পারে, তা একমাত্র তুমি নিজে।’
গত বছর কেকেআরকে আইপিএলও জিতিয়েছেন ক্যাপ্টেন শ্রেয়স। এবার মেগা নিলামে ক্রোড়পতি লিগের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর উঠেছে তাঁর জন্য। ২৬.৭৫ কোটি টাকায় শ্রেয়সকে কিনেছে পাঞ্জাব কিংস। নেতৃত্বের ব্যাটনও তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর হাতে। এই প্রসঙ্গে ভারতীয় তারকার মন্তব্য, ‘দেখুন, খারাপ তো ২০২৩ বিশ্বকাপেও খেলিনি। তারপরও কঠিন সময়ে এসেছে। তাই ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তা করি না। খেলাটা উপভোগ করাই লক্ষ্য। আর হাসিখুশি থাকতে চাই। পছন্দের গান বাজলে মাঠেই কোমর দোলাব, কে কী ভাবছে তাতে কিছু এসে যায় না।’