Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সভায় গুলি, আমেরিকায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ নেতাকে খুন

স্থান ও সময় ভিন্ন। পরিণতিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় আততায়ীর হামলায় কান ঘেঁসে গুলি বেরিয়ে গিয়েছিল। কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সভায় গুলি, আমেরিকায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ নেতাকে খুন
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিউ ইয়র্ক: স্থান ও সময় ভিন্ন। পরিণতিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় আততায়ীর হামলায় কান ঘেঁসে গুলি বেরিয়ে গিয়েছিল। কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার একই ধরনের হামলার মুখে পড়লেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নেতা চার্লি কার্ক (৩১)। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন এই তরুণ নেতা। এদিন উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজারের বেশি পড়ুয়ার উপস্থিতিতে বিতর্ক সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন চার্লি। আচমকা কিছুটা দূরের একটা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চার্লি। আততায়ীর হদিশ মেলেনি। তার সন্ধানে তল্লাশি চলছে। যদিও খুনে ব্যবহৃত মাউজার অ্যাকশন বোল্ট রাইফেল উদ্ধার করেছে এফবিআই। সন্দেহ এতে  পয়েন্ট ৩০-৩৬ ক্যালিবারের স্প্রিং ফিল্ড কার্তুজ ব্যবহার করা হয়েছিল।   চার্লির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিহতকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা, ‘আমেরিকার জন্য এক অন্ধকার মুহূর্ত। লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন চার্লি। আমেরিকার মানুষ. স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করেছেন। সত্য ও স্বাধীনতার জন্য শহিদ হয়েছেন তিনি।’ চার্লিকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

Advertisement

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেছিলেন রক্ষণশীল সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা চার্লি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাত্র-যুবদের ভোট টানাতে সহায়ক হয়েছিল তাঁর প্রচার। ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন তিনি। 
হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সাদা টি-শার্ট পরে একটি তাঁবুর  নীচে বসে বক্তব্য রাখছিলেন চার্লি। হাতে মাইক্রোফোন। ‘দ্য আমেরিকান কামব্যাক’ আর ‘প্রুভ মি রং’ স্লোগানে মুখরিত চারিদিক। আচমকা একটি গুলি এসে লাগে চার্লির গলার কাছে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভিজে যায় শরীর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডান হাত তুলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চার্লি। সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পড়ুয়াদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে উদভ্রান্তের মতো ছুটতে থাকেন তাঁরা। পদপিষ্টের মতো অবস্থা তৈরি হয়। 
হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনায় উগ্র বামপন্থীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘বছরের পর বছর ধরে চার্লির মতো দুর্দান্ত আমেরিকানদের নাৎসি ও বিশ্বের কুখ্যাত খুনি, অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করে আসছেন উগ্র বামপন্থীরা। আজ দেশে যে সন্ত্রাস চলছে তার জন্য দায়ী এই ধরনের বক্তব্য। এই মুহূর্তে এটা বন্ধ হওয়া উচিত। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের খুঁজে বের করবে আমাদের প্রশাসন।’ চার্লির হত্যার নিন্দায় সরব ডেমোক্র্যাট শিবিরও। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসমের তোপ, ‘চার্লি কার্কের উপর এই হামলা অত্যন্ত জঘন্য।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ