


ঢাকা, ২৮ মে: দেশত্যাগের ঠিক আগেই কী বলেছিলেন শেখ হাসিনা? সেই কথাই জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের শুনানির সময়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের শেষ বক্তব্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম। সেখানেই তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেওয়ার মুহূর্তে ও দেশ ছাড়ার সময়ে হাসিনা বলেছিলেন, ‘গুলি করুন আমায়, এই গণভবনেই কবর দিয়ে দিন।’ গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন হাসিনা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তখন উত্তপ্ত বাংলাদেশ। গোটা দেশে, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শত শত মানুষ।
ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, আইন অমান্য করছিল আমজনতা। সঙ্গে ছিল পড়ুয়ারা। কিন্তু তখনও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাননি হাসিনা। বাংলাদেশের সেনা বারবার মুজিব কন্যাকে অনুরোধ করেছিলেন দ্রুত পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে। কারণ গত ৫ আগস্ট ২০২৪ বিক্ষুদ্ধ জনতার ধেয়ে আসার কথা ছিল হাসিনার বাসভবনের দিকেই। এই সমস্ত কথা গত রবিবার আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের শুনানিতে বলেছেন চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম। গত বছরের ৪ ও ৫ আগস্টের কিছু ঘটনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জুলাই গণ আন্দোলনের সময়ে ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত অপরাধের মামলার শুনানি চলছে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে। সেখানেই তাজুল ইসলাম বলেন, গণ আন্দোলনের সময়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান, জাতীয় সংসদের তদকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। কিন্তু হাসিনার দলেরই কিছু নেতা তাতে আপত্তি জানান। এই বিষয়ে গত ৪ ঠা আগস্ট রাতে হাসিনার বাসভবনে একটি বৈঠকে বসে আওয়ামি লিগ নেতৃত্ব, মন্ত্রী ও সেনা প্রধান। সেখানেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এমনটাই শুনানিতে জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের উপদেষ্টা হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু মুজিব কন্যা রাগ দেখিয়ে, পদত্যাগ না করার কথা জানিয়ে দেন। সঙ্গে সেনাকে নির্দেশ দেন আন্দোলনকারীদের কড়া হতে দমন করতে। পরের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট, পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছিল দেশে। তখন ফের একবার সেনা প্রধান ও পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। তখনই পুলিস জানান, তাঁদের কার্তুজ শেষের পথে ও আগ্নেয়াস্ত্রও লুঠ হয়ে যাচ্ছে।
তখনই সেনার তরফে হাসিনাকে ফের একবার পদত্যাগের কথা বলা হয়। যার উত্তরেই মুজিব কন্যা বলেন, ‘তাহলে আমাকে গুলি করে গণভবনেই কবর দিয়ে দিন।’ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসিনার সঙ্গে ফের পৃথকভাবে বৈঠক করেন সেনা কর্তারা। তাঁরা বলেন, সময় শেষ, আন্দোলনকারীরা যখন খুশি গণভবনে প্রবেশ করবেন। ফের প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলেন, এমনকী হাসিনার পা ধরে অনুরোধ জানান, তাঁর বোন রেহানাও। কিন্তু তাতেও প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেননি হাসিনা। শেষে সেনার তরফে যোগাযোগ করা হয় হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে। যিনি আমেরিকায় ছিলেন। তখনই মা হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে বলেন ছেলে জয়। তারপরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে পদত্যাগ করে হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়েন হাসিনা। সঙ্গে নিজের বোন রেহানাকেও নিয়ে যান। শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম।