


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিনসপ্তাহ আগে বিহারের আরায় সোনার দোকানে ডাকাতির মামলায় পুরুলিয়া জেল থেকে পাটনা আদালতে হাজির করা হয়েছিল গ্যাংস্টার শেরু ওরফে ওঙ্কারনাথ সিংকে। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেছিল শার্প শ্যুটার তৌসিফ ওরফে বাদশা। আর এক গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রা ওরফে সিংকে কীভাবে খতম করতে হবে, তার প্ল্যান বলে দিয়েছিল
শেরু। তৌসিফকে জেরা করে এই তথ্যই পেয়েছে বিহার পুলিস। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে শাগরেদদের মাধ্যমে শেরু ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে তার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গুলি কাণ্ডে জড়িত বলবন্ত ওরফে ভিন্ডি তাকে আর্মস সরবরাহ করেছিল। তৌসিফকে জেরা করে জেনেছেন তাঁরা।
তৌসিফকে জেরা করে তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, পাটনার যে হাসপাতালে চন্দনকে খুন করা হয়, সেখানকার এক কর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বহু পুরনো। সেই সুবাদে ওই হাসপাতালে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানকার প্রতিটি ঘর তার চেনা। ওই কর্মীই তাকে হাসপাতালে ঢোকার সুযোগ করে দেয়। তার সঙ্গে ঢুকে পড়ে বাকি শ্যুটাররাও। ওই কর্মী পুরোটাই জানত সে কোন রুমে যেতে চলেছে। সেখানকার অন্য কর্মীরা তাকে দেখে এগনোর সাহস পাননি। ওই কারণে অপারেশনের পর অনায়াসে বেরিয়ে বেরিয়ে যায় তৌসিফ। ইতিমধ্যেই ওই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
তৌসিফ জেরায় জানিয়েছে, শেরু ওরফে ওঙ্কারনাথ সিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বেউর জেলে। মাদক পাচার মামলায় ধরা পড়ে সে সেখানে ছিল। শেরু বেউর জেলে বসে সুবোধের কায়দায় টিম তৈরি করছিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে তার অন্তত হাজার খানেক ‘ছেলে’ রয়েছে। তাদের সকলের কাছেই রয়েছে মারাত্মক সব আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যেককে ‘মাস মাহিনাও’ দিচ্ছে সে।
বিহার পুলিসের দাবি, তৌসিফ ওরফে বাদশা ছাড়া পেয়ে বাইরে এলে জেলবন্দি শেরু সংশোধনাগার থেকে ফোন করে তাকে কয়েকটি ‘টাস্ক’ দেয়। তাকে বলে একটা ‘বড় অপারেশনে’ যেতে হবে। এতে সফল হলেই তার নাম বিহার, বাংলা ও ঝাড়খণ্ডে ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি জানিয়ে দেয়, জুন মাসের শেষে সে পাটনা আদালতে হাজির হবে। সেখানে শেরু এলে আদালত চত্বরে দেখা করে নেয় তৌসিফ। অপারেশনের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিয়ে যায় সে। সেইমতোই চন্দনকে হাসপাতালের বেডেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। তবে ওই ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বাইকের খোঁজ বিহার পুলিস এখনও পায়নি। বাকি চার অভিযুক্তের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড বিহার ও উত্তরপ্রদেশে লাগাতার তল্লাশি চলছে বলে খবর।
তৌসিফকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার ‘গুরু’ শেরু পশ্চিমবঙ্গে থাকা শাগরেদদের দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছে। জেলে বসে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে হুমকি ফোন করে ‘তোলা’ আদায় করছে। এই টাকা জমা পড়ছে তার শাগরেদদের অ্যাকাউন্টে। সেসব পরে শেরুর নির্দেশমতো সেখান থেকে অন্যত্র ‘ট্রান্সফার’ হয়ে যাচ্ছে। তোলার টাকা পানশালাসহ বিভিন্ন ব্যবসায় শেরু বিনিয়োগ করেছে বলে জেনেছে বিহার পুলিস। এই নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর চলছে।