ঢাকা: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হল। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গ্রহণ করে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম এদিন ১৩৪ পাতার একটি রিপোর্ট দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা এদিন দাবি করেন, গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এরপরই হাসিনা ও তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল তৈরি করেছিলেন হাসিনা। সেই আদালতেই হাসিনার বিচার শুরু হল। শুনানি পর্ব টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকার বিরোধী আন্দোলনে দমনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দেন হাসিনা। এছাড়াও আওয়ামি লিগ ও দলের শাখা সংগঠনের নেতাদেরও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাসিনার বিরুদ্ধে ‘জুলাই বিদ্রোহে’র সময় গণহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই রিপোর্টে। চিফ প্রসিকিউটর এদিন জানান, রীতিমতো পরিকল্পনামাফিক আন্দোলনকারীদের খুন করা হয়েছে। সরকারের প্রধান হিসেবে এই সব ঘটনায় সমস্ত দায় হাসিনার। তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেছিলেন আসাদুজ্জমান ও পুলিসের প্রাক্তন প্রধান আবদুল্লাহ আল-মামুন। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান আত্মগোপন করলেও মামুনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামি লিগকে ‘অপরাধমূলক সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করার জন্যও এদিন ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। এর মধ্যেই আওয়ামি লিগের অভিযোগ, ‘ইউনুস সরকার পরিকল্পনা করে হাসিনার বিরুদ্ধে কুত্সা ও অপপ্রচার করে চলেছে।
এদিকে, জামাত-ই-ইসলামির প্রতি ফের নরম মনোভাব দেখাল ইউনুস সরকার। হাসিনার আমলে জামাতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। যার ফলে প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচি পালন বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারত না তারা। ইউনুস সরকার জামাতের উপর আগেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। রবিবার জামাতের রেজিস্ট্রেশনও ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, রবিবার থেকে বাংলাদেশের বাজারে নতুন ব্যাঙ্ক নোট ছাড়া শুরু হল। এতদিন বাংলাদেশের টাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকত। নতুন নোটে তাঁর ছবি রাখা হয়নি।