Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষীয়ান বিজেপি কর্মীকে খুনের হুমকি, অভিযুক্ত দলেরই ২ কর্মী

ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, উত্তর শহরতলিতে বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল ততই তীব্র হচ্ছে। এবার খড়দহে দলের বর্ষীয়ান কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

বর্ষীয়ান বিজেপি কর্মীকে খুনের হুমকি, অভিযুক্ত দলেরই ২ কর্মী
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, উত্তর শহরতলিতে বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল ততই তীব্র হচ্ছে। এবার খড়দহে দলের বর্ষীয়ান কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বাইকে চেপে আসা দুই বিজেপি কর্মীর হুমকির ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। কয়েকদিন আগে খড়দহে দলের প্রার্থীর উপস্থিতিতে দুই গোষ্ঠীর মারপিটে রক্ত ঝরেছিল। বারবার এই ধরনের ঘটনায় যথেষ্ট বিব্রত গেরুয়া শিবিরের নেতারা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। ওই ভিডিও দেখিয়ে তারা বলছে, এরা জিতলে সাধারণ মানুষের কী পরিণতি হবে, তা সহজেই অনুমেয়। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব গোষ্ঠী কোন্দলের কথা মানতে নারাজ।

Advertisement

খড়দহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিশির রায়। বর্ষীয়ান শিশিরবাবু বিজেপির পুরানো কর্মী। অভিযোগ, মঙ্গলবার বাইকে চেপে দুই বিজেপি কর্মী শিশিরবাবুর বাড়ির সামনে এসে তাঁর প্রাণনাশের হুমকি দেন। ওই ঘটনার পর থেকে প্রবল আতঙ্কে রয়েছেন শিশিরবাবু সহ তাঁর পরিবার। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুই বিজেপি কর্মী ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন শিশিরবাবুকে। আঙুল তুলে আগামী দিনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, বাড়ির মহিলাদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে শিশির রায় বলেন, ‘আমি বিজেপি করি দীর্ঘদিন। দল করলেও কারও সঙ্গে আমার ঝামেলা নেই। ওরা কেন এভাবে আমার বাড়িতে এসে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গেল, বলতে পারছি না। আমার পরিবারের সবাই আতঙ্কিত।’ স্থানীয় বিজেপি নেতা মলয় রায় বলেন, ‘পরিবার বড় হলে মতান্তর তো হয়। যদি কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, আমরা উচ্চ নেতৃত্বকে জানাব। তাঁরা সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।’ 
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় খড়দহ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙাপাড়ায় একটি অনুষ্ঠানবাড়িতে দলীয় বৈঠকের মাঝেই বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনায় চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বিজেপি সূত্রের খবর, খড়দহে বিজেপি ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করতেই গোষ্ঠীকোন্দল শুরু হয়েছে। বিজেপির আদি নেতাকর্মীরা কল্যাণ চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন। কিন্তু অন্য একটি অংশ এখনও গৃহবন্দি করে রাখছে নিজেদের। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলাও মাঝেমধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে। 
এদিকে, উত্তর দমদমে আক্রান্ত বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পিঙ্কি পালের নামে থানায় পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা। প্রার্থী ঘোষণার আগেই উত্তর দমদমে যেভাবে দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন গেরুয়া শিবিরের ভোট ম্যানেজাররা। মরিয়া হয়ে কোন্দল ঢাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ