


সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয় নিয়ে সংশয় নেই! তাই এবার জয়নগর ও মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়ের টার্গেট বেঁধে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়নগরের প্রার্থী বিশ্বনাথ দাসকে ৬০ হাজার ও মন্দিরবাজার কেন্দ্রের প্রার্থী জয়দেব হালদারকে ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করে দেন তিনি।
দুই প্রার্থীর সমর্থনে বুধবার জয়নগরের মোল্লার চকে নির্বাচনি জনসভা করেন তৃণমূল সেনাপতি। সেখানেই কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘গত লোকসভা ভোটের নিরিখে এবার জয়নগর ও মন্দিরবাজারে জয়ের ব্যাবধান বাড়াতে হবেই। প্রার্থী জিতবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ দলের কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘হতাশ হবেন না। আমাদের কাজের নিরিখেই জয়নগর ও মন্দিরবাজারকে এক নম্বর করব। ডায়মন্ডহারবারকে যেমন বুক দিয়ে আগলে রেখেছি, তেমনই আগলে রাখব আপনাদের। এটা আমার প্রতিজ্ঞা। আমি কথা দিলে কথা রাখি।’ তাঁর এই বার্তায় হাততালি আর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সভাস্থল।
এদিন বেলা ২টো ৩২ মিনিট নাগাদ সভাস্থলে আসেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। প্রখর দাবদাহের মধ্যে সভায় জনপ্লাবন দেখে আপ্লুত অভিষেক বলেন, ‘হেলিপ্যাড থেকে সভা—সর্বত্র কেবল মানুষের জয়ধ্বনি। এই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ২০০৮ সাল থেকে আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমার কর্মভূমি। এই জেলায় ৩১-এ ৩১ হবেই।’ এরপর তিনি জয়নগর ও মন্দিরবাজার বিধানসভার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। জয়নগর নিয়ে বলেন, ‘এসইউসির শক্ত ঘাঁটি ছিল এই জয়নগর। সেখানে দু’বার জিতেছেন বিশ্বনাথ দাস। তৃণমূলের বড় সাফল্য জয়নগরের মোয়ার জি আই ট্যাগ পাওয়া। মোয়ার আড়ৎ এই জয়নগর। আন্তর্জাতিক বাজারে মোয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো ২০২৪ এর জুন মাসে জয়নগর- মজিলপুর পুরসভা এলাকায় চার কাঠা জমিতে হয়েছে মোয়া হাব। খরচ হয়েছে ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিমপীঠে দমকল কেন্দ্র হয়েছে। রাস্তার দু’পাশে দু’হাজার পথবাতি বসেছে। বিধায়ক তহবিলের ৭০ লক্ষ টাকায় হাই মাস্ট আলো হয়েছে।’ মন্দিরবাজার বিধানসভার উন্নয়নের খতিয়ান সামনে এনে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ বলেন, ‘কয়েক কোটি টাকায় মথুরাপুর গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। পোলেরহাটে আইটিআই কলেজ হয়েছে। কেশবেশ্বর মন্দিরে কমিউনিটি হল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, দু’টি বিধানসভায় সরকারি প্রকল্পের সুফল তুলে ধরেন অভিষেক। বলেন, ‘জয়নগরে ১২৫ কোটি টাকায় ও মন্দিরবাজারে ৭২ কোটি টাকায় গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। ৭৩ হাজার মানুষ জয়নগরে বাংলার ঘর নির্মাণ করেছে। মন্দিরবাজারে ৩০ হাজার মানুষ বাংলার ঘর পেয়েছেন। ২২ হাজার জন যুবসাথী পেয়েছেন মন্দিরবাজারে। জয়নগরে যুবসাথী প্রাপকের সংখ্যা ৩৫ হাজার।’ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জয়ের ব্যবধান বাড়াতেই হবে। যা সাহায্য লাগবে, আমি দেব।’