নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংসদীয়স্তরে দলের সাংগঠনিক পরিসরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বাড়তি দায়িত্ব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন থেকে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্ব সামলাবেন অভিষেক। এতদিন পর্যন্তওই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে সুদীপবাবু অসুস্থ। উনি নিয়মিত সংসদে যেতে পারছিলেন না। তাই এই পরিস্থিতিতে অভিষেককেই যোগ্য মনে করে দায়িত্বভার অর্পণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে অভিষেকের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি ঘোষণা করেন মমতা। পরে সামাজিক মাধ্যমে মমতা লিখেছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন থাকায় সাংসদরা সর্বসম্মতিক্রমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুদীপদার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার জনগণের অধিকার, সম্মান রক্ষা করা আমার কর্তব্য।
এদিন তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে সংসদের ভিতরে ও বাইরে তৃণমূলের ভূমিকা এবং আন্দোলন কোনও পন্থায় হবে, কীরকম হবে, সে সম্পর্কে রণকৌশল জানান দেন তৃণমূল নেত্রী। ১২ মিনিটের বৈঠক হয়েছে এদিন। তাতে প্রথমেই রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসাসূচক বার্তা দেন মমতা। অপারেশন সিন্দুরের প্রেক্ষাপটে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব সহ একাধিক বিষয়ে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদরা যথেষ্ট কর্মদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে সুখ্যাতি করেছেন মমতা।
তবে লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের সমন্বয় ও কর্মকাণ্ডে কোথাও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, সেই বিষয়টি উঠে আসে মমতার বক্তব্যে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় অভিষেককে দায়িত্ব দিয়ে লোকসভায় তৃণমূলের সংগঠনকে নতুন উদ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেন মমতা। এমনিতেই সুবক্তা হিসেবে পরিচিত অভিষেক। তাছাড়া দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সবসময় রাখেন অভিষেক। সম্প্রতি অভিষেক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েযে বক্তব্য রেখেছিলেন, তা ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তাছাড়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে তিনি পালন করছেন। এই অবস্থায় আগামী দিনে সংসদে কোন কোন ইস্যু তৃণমূল সাংসদরা আন্দোলন করবেন, কোন ইস্যুগুলিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে, কোন সাংসদ কোন বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন— তার সবকিছু এখন থেকেঅভিষেক ঠিক করবেন বলে দায়িত্বভার দিয়েছেন মমতা।
যদিও বৈঠক শেষ হওয়ার পর লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কল্যাণবন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের সংগঠনে সমন্বয় হচ্ছে না বলে নেত্রী জানিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ আছেন বলে লোকসভায় আসেন না। কাকলি ঘোষদস্তিদার মাঝে মধ্যে আসেন। ফলে সব দায় আমাকেই নিতে হবে আবার শুনতেও হবে। তাই আমি মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়াই শ্রেয় মনে করেছি। সেই সঙ্গে কল্যাণ প্রকাশ্যেই মহুয়া মৈত্রর নাম করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মহুয়া যে ধরনের আচরণ করছেন, সেইজন্য দল কেন পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরেকল্যাণের সঙ্গে ফোনে কথা হয় অভিষেকের। মুখ্য সচেতকের কাজ কল্যাণ যেন চালিয়ে যান, সেটাই দলের তরফে বলা হয়। যদিও কল্যাণ নিজের বক্তব্যে অনড়। কল্যাণের বিরুদ্ধেমহুয়া কোনও মন্তব্য করেননি রাত পর্যন্ত।
অন্যদিকে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের কাজ নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তুষ্ট। আলটপকা মন্তব্য করে দলের অস্বস্তি তৈরি করার জন্য মমতার নিশানায় পড়েছেন একাধিক সাংসদ। বিধায়কদের জন্য যদি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি থাকে, তাহলে সাংসদদের ক্ষেত্রেও থাকা উচিত বলে বৈঠকে জানান তিনি। মমতার নির্দেশমতো একটি কমিটি তৈরি হতে চলেছে।