নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজ্যের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম একটি নির্দেশিকায় অন্যান্য জেলা এবং রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন থেকে প্রায় ৮০০ ফোর্স মোতায়েন থাকার কথা বলেছেন। চন্দননগর এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট ছাড়াও হুগলি গ্রামীণ, বারুইপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ১৩ স্টেট আর্মড পুলিস ব্যাটালিয়ন এবং ঝাড়গ্রামের স্পেশাল স্ট্রাইকিং ফোর্স থেকে বাহিনী আনা হবে। শেষ মুহূর্তে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জানা গিয়েছে, ২৭ এপ্রিল থেকেই অন্য জেলা থেকে বাহিনী পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছে যাবে। মুর্শিদাবাদ, রানাঘাট, বীরভূম এবং বাঁকুড়া জেলা থেকে মোট পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিস সুপার র্যাঙ্কের অফিসার দীঘায় আসছেন। এছাড়াও ১০ জন ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার এবং ১৫ জন ইনসপেক্টর বাইরের জেলা থেকে দীঘায় আসবেন। অন্যান্য জেলা থেকে সাব ইনসপেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর মিলিয়ে প্রায় ১২০ জন থাকবেন। এর বাইরে পূর্ব মেদিনীপুরের আরও প্রায় আটশো বাহিনী এই মেগা অনুষ্ঠানের সুরক্ষায় নিযুক্ত থাকবে। বাহিনী মোতায়েনে যাতে কোনওরকম ঘাটতি না থাকে সেটা নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার থেকে জগন্নাথ মন্দির ক্যাম্পাসের ভিতর হাঙার টাঙিয়ে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দমকলের ইঞ্জিনের সাহায্যে জল ছিটিয়ে গোটা এলাকাকে ধুলোবালি মুক্ত করার কাজ চলছে। বুধবার মঞ্চ তৈরির কাজ খতিয়ে দেখতে দীঘায় যান জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায় এবং এদিনই কাঁথির মহকুমা শাসক হিসেবে যোগ দেওয়া ধুমলপ্রতীক অশোক। এদিন প্রায় সাত-আটটি পণ্যবাহী গাড়িবোঝাই হয়ে বহু ‘কুলার’ মেশিন জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে যায়।
মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য দীঘা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট পাঁচটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জায়গায় দমকল কর্মীসহ ইঞ্জিন থাকবে। সেজন্য বাইরের জেলা থেকে দমকল কর্মী এবং ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাতে কোনওরকম নাশকতামূলক ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক পুলিস। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠান স্থলে যাওয়ার প্রতিটি গেটে মেটাল ডিটেক্টর সমেত সিকিউরিটি গেট থাকবে। জগন্নাথ মন্দির ক্যাম্পাসের ভিতর এবং বাইরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা থাকবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় পৌঁছে যাবেন। সেদিন থেকেই গোটা দীঘায় নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো থাকবে। মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হবেন। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘার কোনও ঘাটে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিস, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার এবং নুলিয়া থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারি চলবে। পুরনো জগন্নাথ মন্দির ঘাট এবং মাইতির ঘাট নতুন করে সাজানো হয়েছে। কারণ, মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া ভক্তরা এই দু’টি ঘাট বেশি করে ব্যবহার করবেন। সেখানেও বাড়তি নিরাপত্তা থাকছে।
জেলাশাসক বলেন, মঞ্চ তৈরি সহ অন্যান্য প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে চলছে। বুধবারও আমরা ঘুরে দেখেছি। অনুষ্ঠানে সুরক্ষার বিষয়টি পুলিস কর্তারা দেখছেন।