


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: যশোর রোডে ডাম্পারের চাকায় মৃত্যু হল এক স্কুটারচালকের। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সৌমেন পাল (৩১)। এতে গুরুতর জখম হয়েছেন স্কুটারে থাকা তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা পাল ও তিন বছরের ছেলে। দু’জনকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাম্পারটিকে আটক করার পাশাপাশি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
বিরাটির শিবাচল এলাকায় বাড়ি সৌমেন পালের। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। শুক্রবার বিকেলে বিরাটি থেকে স্কুটারে করে ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বারাসতের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন সৌমেন। আত্মীয়ের বাড়িতে কিছু সময় কাটিয়ে মধ্যমগ্রামের একটি শপিং মল থেকে কিছু কেনাকাটাও করেন দম্পতি। এরপর তিন বছরের ছেলেকে স্কুটারের মাঝখানে বসিয়ে বিরাটির বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ যশোর রোড ধরে মধ্যমগ্রাম চৌমাথার দিকে আসার সময়ে মেঘদূত মোড় সংলগ্ন একটি শপিং মলের কাছে পিছনের দিক থেকে আসা একটি ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটির পিছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। তাতে তিনজনই যশোর রোডে ছিটকে পড়েন। রাস্তার ডানদিকে পড়েন সৌমেন, বাকিরা বাঁদিকে। এদিকে, দুর্ঘটনার পরেও ডাম্পার না থামিয়ে, বরং গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। তাতেই রাস্তায় পড়ে থাকা স্কুটারচালকের দেহ জড়িয়ে যায় ডাম্পারের চাকায়। এরপরেও চালক গাড়ি থামাননি। ওই অবস্থাতেই সামনের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার চলে যায় ডাম্পারটি।
ভয়ঙ্কর এই ঘটনা নজরে আসতেই ওই ডাম্পারের পিছু ধাওয়া করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে যশোর রোডের উপরেই ডাম্পার ফেলে চম্পট দেন চালক। খবর পেয়ে চলে আসে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। ডাম্পারের পিছনের চাকায় জড়িয়ে থাকা সৌমেনকে উদ্ধার করে তারা। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে পুলিস নিয়ে আসে মধ্যমগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসক সৌমেন পালকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম সুস্মিতা ও তাঁর ছেলেকে স্থানান্তরিত করা হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন মা এবং ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য দে বলেন, যদি সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি দাঁড়িয়ে যেত, তাহলে বোধহয় বাঁচান যেত স্কুটারচালককে।
এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিস জেলার ট্রাফিকের ডিএসপি নীহাররঞ্জন রায় বলেন, বেপরোয়া গতির গাড়ি চিহ্নিত করার জন্য যশোর রোড জুড়ে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি করা হচ্ছে। ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কেসও করা হচ্ছে।