Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুলে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, অবরোধ-লাঠিচার্জ, রণক্ষেত্র বনগাঁ

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বনগাঁর গাঁড়াপোতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কাঠগড়ায় স্কুলেরই এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী।

স্কুলে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, অবরোধ-লাঠিচার্জ, রণক্ষেত্র বনগাঁ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বনগাঁর গাঁড়াপোতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কাঠগড়ায় স্কুলেরই এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। নাম সুপ্রভাত সাধু। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।   

Advertisement

ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় স্থানীয়রা। প্রায় হাজার দুয়েক মানুষ স্কুলের বাইরে হাজির হন। দিনভর চলে হাঙ্গামা। অভিযুক্তের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকে বনগাঁ বাগদা সড়কে অবরোধ শুরু করে স্কুল ছাত্রী ও অভিভাবকরা। অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বনগাঁ থানার পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন্ত কবিরাজ, এসডিপিও অর্ক পাঁজা। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি চলে। পালটা লাঠি চার্জ করে পুলিশও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিভিন্ন থানা থেকে ফোর্স আনা হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলে দেয়। পুলিশের দাবি, উত্তেজিত জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও পুলিশকে গালাগালি করে ইট ছুড়তে থাকে জনতা। এরপর বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যাপক লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করতে মাইকে ঘোষণা করে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে করে স্কুলের শিক্ষিকাদের বের করে আনা হয়। পরিবারের তরফে বনগাঁ থানায় অভিযোগ জানানো হয়। 
ছাত্রী ও অভিভাবকদের দাবি, স্কুলের ভিতর প্রধান শিক্ষিকার মদতে নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হত অভিযুক্ত। এমনকি স্কুল চত্বরে মদ্যপানও করত চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মী। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার অষ্টম শ্রেণির সংস্কৃত পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার আগে স্কুলের তিনতলায় বই জমা রাখতে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির তিন ছাত্রী। অভিযোগ, ওই অশিক্ষক কর্মী দুজন ছাত্রীকে চলে যেতে বলে। এরপর অপর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে। নিগৃহীত ছাত্রী পরীক্ষা না দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্কুলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করে। শিক্ষিকাদের আটকে রাখা হয়। এরপরও স্কুলে ভাঙচুর করে স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার মদতে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে নানা অসামাজিক কাজ করত অভিযুক্ত। নিগৃহীতা ছাত্রীর মা জানান, মেয়ে আজ স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেলেও পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে আসে। আমরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ববি মিত্র বলেন, আমি বিষয়টি অন্য ছাত্রীদের কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। যদিও বিক্ষোভের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে ভরতি করা  হয়। 
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিজেপির কেউ কেউ স্থানীয়দের উসকে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, তৃণমূলের আমলে বাচ্চা মেয়েরাও সুরক্ষিত নয়। তদন্ত করলে হয়ত দেখা যাবে, অভিযুক্ত তৃণমূলের মদতপুষ্ট। বিজেপি এধরনের কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। মানুষের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ