সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: ইটস হিয়ার হোয়ার ড্রিমস টেক ফ্লাইট... এখানেই উড়ান নেয় স্বপ্নদল! মুম্বই এয়ারপোর্টের এক নম্বর টার্মিনালে ‘অ্যারাইভাল’ মাত্রই চোখে পড়বে শব্দগুলো। যাঁর নামাঙ্কিত বিমানবন্দর, সেই ছত্রপতি শিবাজির ছবির চারপাশে ছোটো-বড়ো নানা সাইজে লেখা। স্বপ্নের এমন হাতছানিকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ওড়ার স্বপ্ন, ক্রিকেটীয় উড়ানের স্বপ্নও। আসমুদ্রহিমাচল যে পণ করেছে, বিশ্বকাপ দেশের বাইরে না যেতে দেওয়ার। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার আরব সাগরের পাড়ে ইংল্যান্ড বধ মানেই স্বপ্নপূরণের শেষ ধাপ।
অতীতে সেমি-ফাইনাল মানেই ভারতের অবধারিত গাঁট। তা সে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ হোক, কিংবা ১৯৮৭ সালের ওডিআই মহাযুদ্ধ। সেই বছর আবার ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল এই ইংল্যান্ড। এবার গ্রুপ লিগে ধুঁকতে থাকা বাটলার বাহিনী আচমকাই সুপার এইটে ছন্দে ছুটছে। তাই আজকের ম্যাচ সহজ চ্যালেঞ্জ হিসাবে মোটেও নিচ্ছেন না সূর্যকুমাররা। আরএই ম্যাচ মানেই যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রক্ত ঝরানো সংগ্রামের স্মৃতি উসকে ওঠা। বাড়তি তাগিদ। সেই তাগিদে অবশ্য সোনালি স্বপ্ন বুনছে সঞ্জুর ব্যাট। বছরের পর বছর ডাগ আউটে প্রতীক্ষারত, শান্ত এক যুবক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পর জাতীয় নায়কের আসনে। ৯৭ নট আউট সঞ্জু বেরিয়ে আসছেন ম্যাচ জিতিয়ে, তাঁকে টুপি খুলে কুর্নিশ করছেন ক্যাপ্টেন সূর্য... ব্যাকগ্রাউন্ডে ইডেনের সমবেত কণ্ঠে বন্দে মাতরম। এটাই যে এখন ভারতের রিংটোন। স্বপ্নেরও।
মুশকিল হল, রঙ্গমঞ্চকে নিয়েও ধাঁধা থাকছে। তখনও আকাশে রক্তরাগ, সন্ধ্যা ছ’টায় পিচ থাকল কভারে। তখনও ঘাসের আভা স্পষ্ট। জোফ্রা আর্চারের চোখ খুশিতে চকচক করার জন্য যথেষ্ট। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর নাকি পিচ দেখে অসন্তুষ্ট। অবশ্য ইংল্যান্ডের আর্চার থাকলে ভারতেরও যশপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং রয়েছেন। ব্যাকআপ হার্দিক পান্ডিয়া। স্পিনেও লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি। ভারতের বরুণ চক্রবর্তী, তো ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। কিন্তু চেন্নাইয়ান মিস্ট্রি স্পিনার যে গত কয়েক ম্যাচে ছন্দে নেই! বুধবারের একটা স্টাম্প রেখে দীর্ঘক্ষণ হাত ঘোরালেন তিনি। দুপুরে গনগনে গরমের মধ্যে রিঙ্কু সিং, ওয়াশিংটন সুন্দর আবার ছক্কা হাঁকানোর কম্পিটিশনে নাম লেখালেন। যোগ দিলেন তিলক ভার্মাও।
নৈশালোকে হ্যারি ব্রুকদেরও দেখা গেল এক পথে হাঁটতে। যা আভাস, পাওয়ার প্লে’তে অফস্পিনার উইল জ্যাকসই থাকছেন অভিষেক শর্মার জন্য। যুবরাজের শিষ্য অবশ্য মাঠে আসেননি। অপশনাল প্র্যাকটিস ছেড়ে তিনি ছুটলেন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে। ঈশান কিষান ও অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে। ঈশ্বরের আশীর্বাদে যদি দুঃসময় কাটে!