Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জয় শ্রীরাম বলতে চাপ সহ দিল্লি পুলিসের অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরলেন সাজনুর

নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে দিল্লিতে। করা হয়েছে মারধর। কেড়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল। দিতে হয়েছে টাকা। এমনকী শিশুর উপর চলেছে অমানবিক নির্যাতন।

জয় শ্রীরাম বলতে চাপ সহ দিল্লি পুলিসের  অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরলেন সাজনুর
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে দিল্লিতে। করা হয়েছে মারধর। কেড়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল। দিতে হয়েছে টাকা। এমনকী শিশুর উপর চলেছে অমানবিক নির্যাতন। —দেশের রাজধানী থেকে কলকাতায় ফিরে এসে অত্যাচারের বিশদ বিবরণ তুলে ধরলেন পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী সাজনুর পারভিন। তাঁর দাবি, ‘নির্যাতন চালিয়ে এবং মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে আমাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে দিল্লি পুলিস।’ ঘটনাটি নিয়ে কলকাতার প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সাজনুর। 

Advertisement

গত রবিবার সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট করা এক ভিডিওয় একটি শিশু এবং তার মায়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তার উল্লেখসহ মমতা লেখেন, ‘সাংঘাতিক সন্ত্রাস! দিল্লি পুলিস মালদার চাঁচলের এক পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের এক শিশু ও মা’কে কী নিষ্ঠুরভাবে মেরেছে! বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিজেপির ভাষা-সন্ত্রাসে একটি শিশুরও পরিত্রাণ নেই!’ 
যদিও সেই ভিডিওকে খণ্ডন করার চেষ্টায় দিল্লি পুলিস পাল্টা ভিডিও ছাড়ে। মমতাও জানান, তিনি ফেক ভিডিও দেন না। 
এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার কলকাতায় ফিরে এসে ‘আসল ঘটনা’ শোনান মোক্তার খানের স্ত্রী সাজনুর। এদিন তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে সাজনুর দাবি করেন, ‘দিল্লি পুলিস অর্ধেক ভিডিও প্রকাশ করেছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘পুরোটা কেন সামনে আনছে না?’ সাজনুর বলেন, ‘একদিন পুলিসের পরিচয় দিয়ে চারজন লোক এসে আধার কার্ড দেখতে চায়। আমার স্বামীর সম্পর্কে জানতে চায়। হুমকি দেওয়া হয়, আমরা যেন পালিয়ে না যাই। পরদিন আবার চারজন এসেছিল। আমাদের ‘বাংলাদেশি’ বলা হয়।’ মহিলার অভিযোগ, ‘এরপর আমাকে আর আমাদের ছেলেকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে আমাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে, চলেছে অত্যাচার। আমার ছেলেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। মারধরও করা হয় তাকে।’
সাজনুরের আরও মারাত্মক অভিযোগ, তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়েছে। আপত্তি করায় তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। এরপর তাঁর স্বামীকে ফোন করে চাওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা! তাঁর শাশুড়ি সেই টাকা দেওয়ার পরই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 
পরদিন ফের অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছে বলে সাজনুরের দাবি। তাঁর অভিযোগ, ‘পরদিন পুলিস এসে আমাকে, আমার স্বামী ও ছেলেকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বলে, ‘পশ্চিমবঙ্গের লোক মানেই বাংলাদেশি!’ আমাদের দীর্ঘক্ষণ আলাদা রেখে দেওয়া হয় এবং অনেক কাগজপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়। কেড়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ও আধার কার্ড। আমাদের জেলে ভরে দেওয়ারও ভয় দেখানো হয়। হাসপাতালে সামান্য চিকিৎসাও পাইনি।’
পরিবারটিকে কলকাতায় ফেরান তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম ও মৌসম নুর। এখানে তাদের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর আর্জি, ‘বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ করে ধর্মীয় বিভাজন ঘটিয়ে ভারত ভাঙার চেষ্টা করবেন না মোদি-শাহ।’ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সাজনুর পারভিনের বয়ানে দিল্লি পুলিস ও বিজেপির মুখোশ খুলে গিয়েছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ