নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেলাস্তরে নেতৃত্ব বদল ঘিরে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন আগেই জ্বলতে শুরু করেছিল। এবার খাস কলকাতার বুকে পদ্ম পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেআব্র হয়ে পড়ল। দলের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে নয়া সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা। উভয় জেলাতেই এতদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরই পুনরায় সভাপতি পদে রেখে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। যা নিয়ে দলের অন্দরে চরম অসন্তোষ রয়েছে। রবিবার তা চরম আকার নিল। কলকাতা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করল। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ লোকসভা ভোটে নির্বাচনী তহবিলের টাকা নয়ছয় করেছেন অনুপম। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বেকে জানানো হলেও, ফের তাঁকে জেলা সভাপতি করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে ওইদিন বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের বিপরীতে বিজেপির সভা চলাকালীন জেলা সভাপতির মুখে কালি মাখানো হল। অভিযুক্ত দলেরই একাংশের নেতা-কর্মী।
বিষয়টি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। তাঁদের ‘নির্দেশেই’ অভিযুক্ত জেলা সভাপতি সোমবার সকাল থেকেই কার্যত আত্মগোপন করে আছেন। এমনকী ফোনেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রাজ্য কমিটির এক নেতার কথায়, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই অনুপম। দিলীপ ঘোষের জমানায় দেবশ্রী রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষক ছিলেন। সেই সময় থেকেই অনুপম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ওই মহিলা নেত্রীর সর্বক্ষনের সঙ্গী ছিলেন। মূলত দেবশ্রী চৌধুরির চাপে তৎকালীন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি সভাপতি অনুপমকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। সেই থেকেই অনুপমের উত্থান। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের জমানায় সেই অনুপম জেলা সভাপতি বনে যান। একদফার মেয়াদ শেষ করে ফের দ্বিতীয়বারের জন্য জেলার সর্বোচ্চ পদে বসেছেন। যদিও তাঁর নেতৃত্বে বিধানসভা-লোকসভা কোনও ভোটেই বিজেপি মাথা তুলতে পারেনি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এহেন নেতাকে কেন ফের জেলা সভাপতি করা হল? উল্টে রাজ্য বিজেপির তরফে অনুপম সহ এক মণ্ডল সভাপতিকে কালি মাখানো ও সভায় হামলা করার অভিযোগ চার কর্মীকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিন তাঁদের শো-কজের চিঠি ধরানো হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে, কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্টদের।