


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজো থেকে যজ্ঞ, ছড়া থেকে ছবি। দেওয়াল লিখন, মিছিল-পদযাত্রা, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ। হুগলির রবিবাসরীয় প্রচার কখনও চমক, কখনও বিতর্ককে ঘিরে হয়ে উঠল জমজমাট। রবিবার মানেই পাড়ায় পাড়ায় আলস্যের আবহ। সেই আবহ ভেঙে খান খান হল তৃণমূল, বিজেপি ও বাম প্রার্থীদের লাগাতার প্রচারে। আলস্য কেটে রাস্তায় বেরিয়ে এলেন বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরা। তবে ভোট ঘোষণার অষ্টম দিনেও বিজেপি তার প্রচারে দাপট দেখাতে পারেনি। অনেক জায়গায় প্রার্থী ঘোষিত না হওয়া, কোথাও প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, এখনও পদ্মপার্টির প্রচারকে নজরকাড়া হয়ে উঠতে দেয়নি। সেই তুলনায় প্রার্থী ঘোষণা থেকে প্রচার সবেতেই তৃণমূল ও বামেদের প্রবল উপস্থিতি হুগলিতে নজর কেড়েছে।
বাম মানেই চূড়ান্ত নাস্তিকতা। তবে সময় বদলেছে। বামপন্থারও বাংলা-ভাষ্য তৈরির দাবি আকচার শোনা যায়। সেই প্রেক্ষিতে উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী তথা রাজ্যনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের ‘যজ্ঞ’ রবিবারের প্রচারে নজর কেড়েছে। এদিন উত্তরপাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মারোয়াড়ি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়েছিলেন মীনাক্ষী। সেখানকার এক অনুষ্ঠানে তাঁকে যজ্ঞে অংশ নিতে এবং পুরোহিতের আশীর্বাদ নিতে দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে চর্চা শুরু হতেই রাজ্যনেত্রীর দাবি, তিনি প্রচারে গিয়েছিলেন। বাকি প্রসঙ্গ, অপ্রাসঙ্গিক। শুধু ৭ নম্বর ওয়ার্ডেই এদিন দিনভর দাপিয়ে প্রচার সেরেছেন মীনাক্ষী। আবার ছড়া কেটে দেওয়ালও লিখেছেন। দিনভর দফায় দফায় প্রচার সেরেছেন চণ্ডীতলার বাম প্রার্থী আসিফ আলি ও বলাগড়ের বিকাশ গোলদার। আসিফ আলি ডানকুনিতে গিয়ে রেলের নানা প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বামেদের প্রচারে যেমন ছিল বিতর্ক ও দাবি তেমনই শাসকদলের প্রচারে বিপুল জনতার ভিড় আর সমন্বয়ের প্রয়াস। রবিবারের ‘ছুটি’কে ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। কোথাও মিছিল, কোথাও ছিল বাড়ি বাড়ি প্রচার। সপ্তগ্রামের প্রার্থী বিদেশ বসু থেকে চুঁচুড়ার দেবাংশু ভট্টাচার্য, বাড়ি বাড়ি প্রচার করেছেন। চুঁচুড়ার একটি স্বাস্থ্যশিবিরে অংশ নিয়ে প্রচার সারেন দেবাংশু। বলাগড়ে একাধিক মিছিল হয়েছে তৃণমূলের। মিছিল হয়েছে সিঙ্গুর থেকে ধনেখালিতে। আবার বাড়ি বাড়ি প্রচার হয়েছে হরিপালে। চন্দননগরে তৃণমূল কর্মীদের ওয়ার্ড ভিত্তিক দাপুটে প্রচার দেখা গিয়েছে।
চাঁপদানিতে দিনভর জনসংযোগ করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রার্থী অরিন্দম গুঁইন। পাণ্ডুয়ার তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী (বুয়া) এদিন কর্মিসভা করেছেন। দিনভর একাধিক জায়গায় বৈঠকও করেছেন তিনি। বিজেপির সপ্তগ্রামের প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ রবিবার ইসকন মন্দির পুজোপাঠ করেন। পরে দিনভর প্রচার করেছেন। তাঁকেই হুগলি সাংগঠনিক জেলায় প্রথম প্রার্থী করেছিল বিজেপি। দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি প্রচারে নেমে পড়েন। এদিনও বাড়ি বাড়ি প্রচার, মিছিল, কর্মিসভা করেছেন স্বরাজবাবু। প্রচারে দেখা গিয়েছে বিজেপির বলাগড়ের প্রার্থী সুমনা সরকারকেও। সব মিলিয়ে রবিবাসরীয় প্রচারের দাপটে ‘ছুটি’কে বিদায় দিয়ে হুগলি ছিল কর্মচঞ্চল।