আমেদাবাদ: ২০০২ সালে গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৯ পুলিস কনস্টেবলকে বরখাস্তের সাজা বহাল রাখল গুজরাত হাইকোর্ট। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই পুলিসকর্মীরা। কিন্তু আদালতের মতে, ওই পুলিসকর্মীরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে ট্রেনে আগুন লাগানোর মতো বড় ঘটনা এড়ানো যেত। পুড়ে গিয়ে ৫৯ জন যাত্রীর মৃত্যুর পরেই গুজরাতে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়ায়। যাতে প্রাণ গিয়েছিল দু’হাজারের বেশি মানুষের। ১১০ পাতার রায়ে বিচারপতি বৈভবী ডি নানাবতী বলেছেন, আবেদনকারীরা ঘটনার দিন রেজিস্টারে ভুয়ো এন্ট্রি করে অন্য ট্রেনে চেপেছিলেন। যদি তাঁরা সবরমতী এক্সপ্রেসে থাকতেন, তাহলে গোধরার ঘটনা হয়তো ঘটত না। বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, আবেদনকারী পুলিসকর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ও তার ভিত্তিতেই বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুজরাত রেল পুলিসের মোবাইল স্কোয়াডে কর্মরত ছিলেন ওই নয় কনস্টেবল। ২০০২ সালের ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের রাজকোট-ভোপাল এক্সপ্রেসে আমেদাবাদ থেকে দাহোড় স্টেশন পর্যন্ত ও ফিরতি পথে দাহোড় থেকে সবরমতী এক্সপ্রেসে আমেদাবাদে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ২৬ তারিখ রাতে দাহোড়ে নেমে পুলিসকর্মীরা জানতে পারেন, সবরমতী এক্সপ্রেস অনেকটা দেরিতে চলছে। তাঁরা আর অপেক্ষা না করে শান্তি এক্সপ্রেসে চেপে আমেদাবাদে ফিরে আসেন। আর ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালেই গোধরা স্টেশনে সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-৬ কামরায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। দাঙ্গা ছড়ানোর পর কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে নয় পুলিসকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ২০০৫ সালে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।
আদালতে আবেদনকারী পুলিসকর্মীরা বলেছিলেন, তাঁরা সবরমতী এক্সপ্রেসে না চেপে কোনও ভুল করেননি, কারণ হামলার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না। এছাড়া তাঁদের দাবি, কোনও ট্রেন লেট করলে অন্য ট্রেনে চেপে ফিরে আসা রেল পুলিসের মধ্যে সাধারণ ঘটনা। তাই তাঁদের বরখাস্তের নির্দেশ বাতিল করা হোক। গুজরাত সরকারের তরফে আদালতে বলা হয়, ট্রেনের যাত্রীদের সুরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন ওই কনস্টেবলরা। তাঁরা ট্রেনে না চাপায় যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে হয়। রেজিস্টারে ভুয়ো এন্ট্রি করায় গাফিলতি আরও বড় মাত্রা নেয়।