সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: রাসেল, নারিন, রাহানেদের ছবির পাশে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দিতে হরেকরকম বিশেষণ। বাইপাসের ধারে নাইটদের টিম হোটেল থেকে মা ফ্লাইওভার ধরলে দু’পাশের গরমাগরম হোর্ডিংগুলো মনে ধরতে বাধ্য। মুশকিল হল, বীরপুজোয় ব্যবহৃত সেই বিশেষণগুলো আপাতত হাস্যকরই ঠেকছে। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা তিন ম্যাচের দু’টিতে হেরেছে। অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। লক্ষ্মীবারে সেজন্যই বেগুনি-সোনালি জার্সির কাছে অ্যাসিড টেস্ট। হায়দরাবাদের সুর্যোদয় ঠেকাতে না পারলে সঙ্কট আরও গভীর হবে।
বুধবার বিকেল থেকে সন্ধে, ইডেন দেখল ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া নাইটদের সাধনা। বিকেল চারটের গনগনে রোদেও নেটে পরোয়াহীন নারিন-মঈনরা। ঘণ্টা আড়াই পরের ফ্লাডলাইটের আলোতেও মাঠে ঘাম ঝরালেন তাঁরা। রাসেল মাঝে একপ্রস্থ ফুটবল নাচিয়ে মেতে উঠলেন ছক্কা হাঁকানোর নেশায়। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের ক্লাসে বাধ্য ছাত্রের মতো দেখাল বেঙ্কটেশ আয়ারকেও। দুই ইনিংসে মাত্র ৯ রান! বিশাল ২৩.৭৫ কোটিতে কেনা বাঁ-হাতি ব্যাটার রীতিমতো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নাইট শিবিরে। তাঁকে নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলছে রসিকতা। শহর কলকাতা নাকি সান্ত্বনা খুঁজছে ঋষভ পন্থকে দেখে। লখনউকে যেভাবে ২৭ কোটির তারকা ভোগাচ্ছেন, ‘বহুমূল্য’ বেঙ্কটেশও কলকাতার গলার কাঁটায় পরিণত! নাইটদের সিইও বেঙ্কি মাইসোরকে দেখা গেল একান্তে পণ্ডিতের সঙ্গে আলোচনারত। চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, টুকরো টুকরো ফ্রেমেই স্পষ্ট। এমনিতেও হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে চর্চা অব্যাহত। রাহানেরা অবশ্য বৃহস্পতিবার যতটা সম্ভব পছন্দের পিচই পাবেন। কিন্তু তাতেও তো বিপদ! এদিকে বরুণ-নারিন-মঈন থাকলে ওদিকেও তো জাম্পার সঙ্গে স্পিনের যুগলবন্দিতে নজর কাড়ছেন তরুণ জিশান আনসারি। আবার পিচে গতি-সুইং থাকলে ফোঁস করবেন মহম্মদ সামি, প্যাট কামিন্সরা!
আচমকা আপার টিয়ার থেকে ভেসে আসা জোরালো শঙ্খধ্বনি বোঝাল, দল যতই খারাপ খেলুক ম্যাচে সমর্থনের অভাব হবে না। তবে সানরাইজার্স ক্যাপ্টেন কামিন্স আবার মাঠভর্তি গর্জনকে চুপ করাতে বড্ড ভালোবাসেন। মোতেরার পুনরাবৃত্তি হবে না তো, দুরুদুরু আশঙ্কা থাকছেই! অবশ্য হায়দরাবাদও স্বস্তিতে নেই। টানা দুটো ম্যাচ হেরেছে কমলা জার্সিধারীরা। তিনশোর লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে গত দুটো ম্যাচে দুশোর গণ্ডি টপকাতে পারেনি। ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, নীতীশ রেড্ডি, হেনরিখ ক্লাসেনদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং অবশ্য বারুদে ঠাসা, যা বশ মানানো সহজ নয়। নাইট মেন্টর ব্রাভো অবশ্য পজিটিভ তরঙ্গ আনার চেষ্টা করছেন। কোন লেংথে বল রাখা দরকার, নিজে হাত ঘুরিয়ে দেখালেনও হর্ষিতদের। তা সত্ত্বেও গঙ্গাপাড়ের নন্দনকাননে সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে হোটেলে ফেরার সময় ফ্লাইওভারের হোর্ডিংগুলো নিদারুণ ব্যঙ্গ মনে হবে খোদ রাসেলদের চোখেও!