Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইডেনে রাসেল ঝড়, রুদ্ধশ্বাস জয়ে বেঁচে রইল নাইটদের আশা

এক বৈভবকে দেখতে দুপুরের ইডেনে ভিড় জমিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। রাতে বাড়ি ফেরা জনতাকে স্বস্তি দিলেন অন্য এক বৈভব।

ইডেনে রাসেল ঝড়, রুদ্ধশ্বাস জয়ে বেঁচে রইল নাইটদের আশা
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: এক বৈভবকে দেখতে দুপুরের ইডেনে ভিড় জমিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। রাতে বাড়ি ফেরা জনতাকে স্বস্তি দিলেন অন্য এক বৈভব। বছর ১৪-র বিস্ময় কিশোর, বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য প্রতিভার ঝলক দেখা যায়নি তো কী? নাটকীয় থ্রিলারের শেষ বলে বৈভব অরোরাই তো মাথা ঠাণ্ডা রেখে ছিনিয়ে এনেছেন ১ রানের মহামূল্যবান জয়। প্লে-অফের দৌড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে যা দিয়েছে লাইফলাইন। নাহলে রিয়ান পরাগ আর শুভম দুবের ব্যাটে এদিনই অজিঙ্কা রাহানেদের অভিযানের গঙ্গাপ্রাপ্তি নিশ্চিত ছিল!
অথচ, একসময় ২০৭ রানের টার্গেটের সামনে কোমায় চলে গিয়েছিল রাজস্থান। আট ওভারের মধ্যে ৭১ রানে পড়েছে পাঁচ উইকেট। রাহুল দ্রাবিড়ের ছাত্ররা তখন রীতিমতো শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। একই ওভারে ধ্রুব জুরেল আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার স্টাম্প ছিটকে গিয়েছে বরুণ চক্রবর্তীর জাদুতে। মঈন আলিও নিয়েছেন দু’উইকেট। সুনীল নারিন যথারীতি রহস্যময়। ৭৩ বলে চাই ১৩৬, আস্কিং রেট ১১ পেরিয়েছে। হাসতে হাসতে জিতবে কেকেআর, এমনই আঁচ মিলছিল। 
দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিস্থিতিতেই মারকাটারি ইনিংস উপহার দিলেন রিয়ান। মঈনের এক ওভারে পরপর হাঁকালেন পাঁচটা ছক্কা। ১৩তম ওভারে এল ৩২ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে বরুণকেও পাঠালেন গ্যালারিতে। অর্থাৎ টানা ছ’টা ছক্কা, এবারের কোটিপতি লিগে প্রথমবার! নাইটরা আচমকাই দিশাহারা। হর্ষিত রানা যখন হেটমায়ারকে ফেরালেন, ততক্ষণে ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে ৯২ যোগ হয়েছে। ২৫ বলে আর চাই ৪৪। শতরান থেকে করমর্দনের দূরত্বে রাজস্থান ক্যাপ্টেন। ছক্কা মারতে গিয়ে হর্ষিতের বলে রিয়ান আউট হতেই ফের বদলাল গতিপথ। 
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ ওভারে রাজস্থানের দরকার ছিল ২২। ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ শুভম দুবের দাপটে সমীকরণ নামল ১ বলে ৩ রানে। মাঠজুড়ে তখন পিনপতনের নিস্তব্ধতা। আতঙ্কে কাঁপছে নাইট শিবির। ভিআইপি বক্সে জুহি চাওলা দু’হাতে ঢেকে ফেলেছেন মুখ, চোখে একরাশ উদ্বেগ। পাশেই দাঁড়ানো সিইও বেঙ্কি মাইসোরের দৃষ্টিতে শূন্যতা। সমর্থকদের তো জিভের তলায় সরবিট্রেট নেওয়ার জোগাড়। বৈভবের মাপা লেংথের ডেলিভারি অবশ্য হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচাল। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আউট হলেন জোফ্রা আর্চার। ফলে সুপার ওভারেও গেল না ম্যাচ। ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ল ইডেনের।
তার আগে আন্দ্রে রাসেলের ধুমধাড়াক্কা লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিল কলকাতাকে। এবারের আসরে প্রথমবার পাঁচে নামলেন তিনি। ছয়টি ছক্কা আর চারটি চারে সাজানো দ্রে রাসের ২৫ বলে ৫৭ নট আউট আপশোসই আনল। কেন যে নাইট ম্যানেজমেন্টের বোধোদয়ে এত সময় লাগল! অঙ্গকৃষ রঘুবংশী, ক্যাপ্টেন রাহানে আর গুরবাজের রান পাওয়া অবশ্য ইতিবাচক দিক। ১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট। প্রথম চারে থাকতে গেলে বাকি তিনটিতেও হাসিমুখে মাঠ ছাড়া প্রাথমিক শর্ত। তবে রোজ রোজ এমন টেনশন কিন্তু অসহ্য!

Advertisement

 

ইডেনের স্কোরবোর্ড

কলকাতা: গুরবাজ ক হেটমায়ার বো থিকসানা ৩৫, নারিন বো যুধবীর ১১, রাহানে ক জুরেল বো পরাগ ৩০, অঙ্গকৃষ ক পরিবর্ত (অশোক) বো আর্চার ৪৪, রাসেল অপরাজিত ৫৫, রিঙ্কু অপরাজিত ১৯, অতিরিক্ত ১০, মোট (২০ ওভারে ৪ উইকেটে) ২০৬। বোলিং: আর্চার ৪-০-৩০-১, যুধবীর ২-০-২৬-১, থিকসানা ৪-০-৪১-১, আকাশ ৩-০-৫০-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৫-০, পরাগ ৩-০-২১-১।
রাজস্থান: যশস্বী ক রিঙ্কু বো মঈন ৩৪, বৈভব ক রাহানে বো অরোরা ৪, কুনাল ক রাসেল বো মঈন ০, রিয়ান ক অরোরা বো হর্ষিত ৯৫, জুরেল বো বরুণ ০, হাসারাঙ্গা বো বরুণ ০, হেটমায়ার ক নারিন বো হর্ষিত ২৯, শুভম অপরাজিত ২৫, আর্চার রান আউট ১২, অতিরিক্ত ৬, মোট (২০ ওভারে, ৮ উইকেটে) ২০৫। বোলিং: অরোরা ৪-০-৫০-১, মঈন ৩-০-৪৩-২, হর্ষিত ৪-০-৪১-২, বরুণ ৪-০-৩২-২, নারিন ৪-০-২৭-০, রাসেল ১-০-১১-০। 
 কলকাতা ১ রানে জয়ী। 
 ম্যাচের সেরা রাসেল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ