শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আদালতের নির্দেশে তল্লাশি চালানো হয়েছিল পুলিসের এক সার্কেল ইনসপেক্টরের (সিআই) বাড়িতে। সেখানে একটি বক্স খাটের ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৩১ লক্ষ টাকা! আদালতে জমা পড়া নথি থেকে এই ঘটনা জানতে পেরে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ ব্যাঙ্কশাল আদালতের। কীভাবে এত নগদ টাকা ওই পুলিস আধিকারিকের বাড়িতে এল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। পাশাপাশি, ওই পুলিস আধিকারিকের ৩৫ লক্ষ টাকার আয় বহির্ভুত সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে গোছা গোছা টাকা। তিনি কীভাবে এত সম্পত্তি ও নগদের মালিক হলেন, তা জানতে আয় বর্হির্ভূত সম্পত্তির মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে মুর্শিদাবাদে কর্মরত ওই সার্কেল ইনসপেক্টরের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিসের শীর্ষ মহলে অভিযোগ জমা পড়ে। অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিগত চারটি আর্থিক বর্ষে বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক হয়েছেন ওই অফিসার। নামে-বেনামে অনেক সম্পত্তি করেছেন। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও তিনি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কাজ করেছেন। অভিযোগ, ওই সময় বিভিন্ন অসামাজিক ও অবৈধ কাজকর্মে মদত দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ কামিয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে নবান্নে রিপোর্ট জমা পড়লে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা রীতিমতো চমকে ওঠেন। দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয় দুর্নীতি দমন শাখাকে। তারা একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে এফআইআর জমা করে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে নেমে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালে ওই পুলিস আধিকারিকের আয়কর রিটার্নের নথি সংগ্রহ করা হয়। এই সময়কালে তিনি যে বেতন পেয়েছেন, তার রসিদও জমা পড়েছে আদালতে। সেই সঙ্গে তাঁর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও রয়েছে। সেসব নথি থেকে স্পষ্ট হয়, এই পাঁচ বছরে তাঁর ও পরিবারের কয়েকজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বহু টাকা জমা পড়েছে। তিনি যে পরিমাণ বেতন পেয়েছেন, তার চেয়ে বেশি টাকা জমা পড়েছে। শুধু তাই নয়, এলআইসি, মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারেও বিনিয়োগ করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার কিনেছেন। তারও রসিদ মিলেছে। যে সমস্ত গয়নার দোকানের রসিদ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দোকানগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হবে অলঙ্কার কেনার টাকা তিনি নগদে মিটিয়েছেন নাকি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫ লক্ষের আয় বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ মেলে। এই অবস্থায় আদালত ওই সার্কেস ইনসপেক্টরের বাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দেয়। সেইমতো মধ্যমগ্রাম এলাকায় ওই সিআই’র বাড়িতে গিয়ে বক্স খাটের ড্রয়ার খুলতেই দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে নগদ ৩১ লক্ষ টাকা। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এই টাকা উদ্ধারের উল্লেখ রয়েছে। এই টাকার উৎস জানতে পুলিস আধিকারিককে নোটিস পাঠিয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে খবর। একইসঙ্গে তার পরিবারের নামে কোনও ব্যবসা রয়েছে কি না, তা নিয়েও খোঁজ নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।