বিপুল মজুমদার: নতুন কারও সঙ্গে আলাপ হওয়ার অব্যবহিত পরেই যে কথাটা তথাগতদা অবধারিতভাবে বলে থাকেন তা হল —‘আমি তথাগত লাহা। একাধারে লেখক এবং কবি। কলকাতার হেন কোনও পত্রপত্রিকা নেই যেখানে আমি লিখিনি এবং নয় নয় করে ইতিমধ্যে দশখানা বইয়ের জনকও আমি।’
বিপুল মজুমদার: নতুন কারও সঙ্গে আলাপ হওয়ার অব্যবহিত পরেই যে কথাটা তথাগতদা অবধারিতভাবে বলে থাকেন তা হল —‘আমি তথাগত লাহা। একাধারে লেখক এবং কবি। কলকাতার হেন কোনও পত্রপত্রিকা নেই যেখানে আমি লিখিনি এবং নয় নয় করে ইতিমধ্যে দশখানা বইয়ের জনকও আমি।’
নিজের ঢাক নিজে পেটানোর ব্যাপারটা তেমন আসে না আমার। শুনলে তাই অস্বস্তি হয়। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি হয় যখন উনি আমাকে নিয়ে পড়েন। বড় বড় চোখ করে উল্টোদিকের মানুষটিকে যখন বলেন, ‘আরে এ, একেও কিন্তু উড়িয়ে দিতে পারবেন না। উদীয়মান লেখক একজন। নাম প্রত্যুষ সাহা। লেখার জগতে এ ছেলে একদিন যে ছড়ি ঘোরাবে সে আমি হলফ করে বলতে পারি!’
সেসব তবু ঠিক ছিল। কিন্তু আত্মপ্রচারের মধ্যে ডিসকাউন্টের ব্যাপারটাকে টেনে এনে বিষয়টাকে আরও জটিল করে তুললেন তথাগতদা। একবার এক কবি বন্ধুর বিবাহবার্ষিকীতে দু’জনেই আমরা নিমন্ত্রিত। সেইমতো অনুষ্ঠানের দিন বিকেলবেলা দু’জনে মিলে এক বেডিং স্টোর্সে গেছি গিফট কিনতে। বিছানার চাদর আর বালিশের ওয়াড়ের একটা সেট কিনে কাউন্টারে দাম মেটাতে গিয়ে কী মনে হওয়ায় থমকে দাঁড়ালেন তথাগতদা। আমরা দু’জনে যে স্বনামধন্য লেখক সেই বহুকথিত কীর্তনটি ক্যাশিয়ারকে শোনানোর পর বললেন, ‘লেখক হিসাবে আপনার কাছে কিছু ডিসকাউন্ট আমরা আশা করছি। বেশি চাইছি না, টেন পার্সেন্ট পেলেই চলবে।’
কাস্টমারের অদ্ভুত আবদারে ক্যাশিয়ার তো থ। ঝোলা চোওয়াল নিয়েই বললেন, ‘এখানে সব একদর দাদা। তবু বলছেন যখন দিন না হয় পঞ্চাশটা টাকা কম।’
একশো কুড়ি টাকার পরিবর্তে প্রাপ্তি মাত্র পঞ্চাশ টাকা। কিন্তু তাতেই দেখি দাদার মুখে চওড়া হাসি। বাইরে বেরিয়ে আমাকে বললেন, ‘ব্যবসা করছে, মাল কামাচ্ছে, লেখকদের যোগ্য সম্মান জানাবে না, তা কী করে হয়! দেখলে কেমন আদায় করে নিলাম।’
ভেবেছিলাম ব্যাপারটা কাকতালীয়। ভবিষ্যতে এমনটি আর ঘটবে না। কিন্তু খেলাটা থামালেন না তথাগতদা। বেড়াতে গিয়ে হোটেলের ভাড়া কম করা থেকে শুরু করে ডাক্তারের ভিজিটের অঙ্ক কমানো গোছের অনেকগুলো বিরল কীর্তির পর হঠাৎ একদিন পাড়ার বাজারে আমাকে পাকড়াও করলেন তিনি। জাপটে ধরে বললেন, ‘কাল জামাইষষ্ঠী। জামাই আমার ইলিশ মাছের ভক্ত প্রত্যুষ। তাই ইলিশের খোঁজে কাছের বাজার ছেড়ে চলে এসেছি তোমাদের এই বড় বাজারে। চল ভাই, আমাকে একটা দেড় কিলো সাইজের ইলিশ মাছ বেছে দেবে।’
গেলাম সঙ্গে। বাজারের ধনী মাছ বিক্রেতা শঙ্করের দোকানে গিয়ে বেছেও ফেললাম একখানা বড় সাইজের ইলিশ মাছ। মাছটার ওজন এক কিলো চারশো গ্রাম। শঙ্কর মাছের আঁশ ছাড়াতে যেতেই হা-হা করে উঠলেন তথাগতদা। ড্রেনে পানের পিক ফেলে বললেন, ‘আগে দাম বল, তারপর তো কাটাকুটি।’
মাছের দর কেজি প্রতি দেড় হাজার টাকা। মুখে মুখে হিসাব কষে শঙ্কর বলল, ‘দু’হাজার একশো।’
‘বল কী। না না, অত দেওয়া যাবে না।’
‘বেশ তাহলে পঁচিশ টাকা কম দিন।’
‘উহুঁ, আর একটু নামো।’
‘একটা মাছে ক’টাকা লাভ থাকে দাদা!’ শঙ্করের বেজার মুখ, ‘বেশ, বলেছেন যখন দু’হাজার পঞ্চাশই দিন তাহলে।’
পঞ্চাশ টাকা ছাড় পেয়েও দাদার মুখে হাসি নেই। ভ্রু নাচিয়ে শঙ্করকে বললেন, ‘খবরের কাগজ পড়া-টড়া হয় নাকি?’
‘হ্যাঁ, হয় বইকি। বাড়িতে রেগুলার কাগজও রাখি।’
‘তাহলে আমার লেখা নিশ্চয়ই চোখে পড়েছে?’
‘আপনার লেখা!’ নিমেষে ভ্যাবলা শঙ্কর, ‘কী-কী লেখা বলুন তো?’
‘এই গল্প কবিতা এইসব।’
‘না ইয়ে মানে... আপনার নামটা কী দাদা?’
‘আমার নাম তথাগত লাহা। একাধারে লেখক এবং কবি। কলকাতার হেন কোনও পত্রপত্রিকা নেই...।’
ব্যস লাইন ক্লিয়ার। এমনটাই তো চাইছিলেন তথাগতদা। ছুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হতে। দোকানের সামনে একগণ্ডা খদ্দের। তারা সব অবাক হয়ে দাদার বাতেলা শুনছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দাদার প্রতিভার বিকিরণে হার মানল শঙ্কর। চোখ পিটপিট করে বলল, ‘দেখুন দাদা, মানীর মান রাখব না এমন পিশাচ আমি নই। আপনার কথায় পঞ্চাশ টাকা আরও কম রাখছি। দিন দু’হাজারই দিন।’ ক’টা টাকার জন্য কেন নিজেকে এভাবে খেলো করা। লজ্জা লজ্জা! তক্ষুনি মনস্থির করলাম, ভবিষ্যতে তথাগতদার কোনও কেনাকাটার ব্যাপারে আর আমি নেই।
ঘটনার বেশ কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন আমার বাড়িতে এসে হাজির হলেন তথাগতদা। এসেই নরম গলায় আমাকে বললেন, ‘আমার ডিসকাউন্ট চাওয়ার ব্যাপারটায় তোমার যে অ্যালার্জি আছে তা জানি। তবে এবার যে কারণে এসেছি তাতে কিন্তু কেনাকাটার কোনও সিন নেই। ছেলের বিয়ে দেবেন বলে এক মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট ছাড়তে বলেছেন বাড়িওয়ালা। শালবাগানে ভালো একটা ফ্ল্যাট খালি আছে খবর পেয়েছি। এখন সেখানে যাচ্ছি আমি ফ্ল্যাট দেখতে। তুমিও চল আমার সঙ্গে।’
ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে কেনাকাটার কোনও সম্পর্ক নেই যখন, তখন আর আপত্তি কীসের। গেলাম সঙ্গে। শালবাগান পুকুরের ধারে পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্ট— মধুমিতা। তার তিনতলায় সেই ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটের মালিক ঘরদোর দেখানোর পর ব্যালকনিতে নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘এমন দক্ষিণমুখো ব্যালকনি এ তল্লাটে আর পাবেন না। মলয় বাতাস যে কী জিনিস তা এখানে বসলেই টের পাবেন। ইলেকট্রিক বিল বাদ দিয়ে ভাড়া মাত্র আট হাজার টাকা। আর দিতে হবে এক মাসের ভাড়া অ্যাডভান্স।’ তথাগতদার মুখচোখ দেখে মনে হল ফ্ল্যাটটা বেশ পছন্দ হয়েছে ওঁর। আমাকে চোরা একটা হাসি ছুড়ে দিয়ে ফ্ল্যাটের মালিককে বললেন, ‘ভাড়াটা বড্ড বেশি হয়ে যাচ্ছে। ওটাকে সাত হাজার করুন।’
শুনেই চোখ তেরছা ফ্ল্যাট মালিকের, ‘এমন হাইফাই ফ্ল্যাট সাত হাজারে। মাথা খারাপ নাকি আপনার?’
‘কী, আমার মাথা খারাপ!’ নিমেষে চোয়াল শক্ত দাদার, ‘জানেন আমি কে? তথাগত লাহা। একাধারে লেখক এবং কবি। কলকাতার হেন কোনও পত্রপত্রিকা নেই...!’
যাচ্চলে, আবার সেই কীর্তন। রাগের অছিলায় দিব্যি চেনা গলিতে ঢুকে পড়েছেন তথাগতদা। ঢাকের পরিচিত বোল শুনতে শুনতে ভাবলাম, কেন যে মরতে এলাম।
আমার তিতকুটে মুখ দেখেও কোনও হেলদোল নেই দাদার। সগর্বে বলে চলেছেন, ‘কপালজোরে কোনওদিন যদি বড় কোনও খেতাব-টেতাব পেয়ে যাই তাহলে আর দেখতে হবে না। এক লাফে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়বে এ ফ্ল্যাট। মালিক হিসাবে আপনি তো তখন সেলিব্রিটি মশাই।’
তথাগতদার কথা শুনে হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থা বাড়িওয়ালার। হেঁচকি তুলে বলে উঠলেন, ‘লেখক-কবিদের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা নেই তা ভাববেন না। তবে অতটা কমে পারব না দাদা। সাড়ে সাত হাজার হলে দিতে পারি।’
পাঁচশো টাকা কমাতে পেরে খুশিতে ডগমগ দাদা। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আমাকে বললেন, ‘কে বলে বাজারে লেখক-কবিদের কদর নেই। সামান্য লেকচার দিয়েছি কী অমনি পাঁচশো টাকা ঝপ করে কেমন কম হয়ে গেল!’
আমি আর কী বলব। ছোট মাপের লেখক তাই ছোট মুখে বড় কথা মানাবে না বলে মুখে কুলুপ আঁটলাম। বুঝলাম এ লোককে থামানো আমার কম্মো নয়।
দুই
কতই বা বয়স হবে তথাগতদার, বড়জোর পঞ্চান্ন কি ছাপ্পান্ন। খবরটা শুনে মাথায় যেন বাজ পড়ল আমার। পড়িমড়ি করে ছুটে গেলাম মধুমিতা অ্যাপার্টমেন্টে। দুপুরবেলা ব্যাঙ্ক থেকে ফিরে এসে এক গ্লাস জল চেয়েছিলেন বউদির কাছে। বউদি জল নিয়ে এসে দেখেন সোফার উপর কাত হয়ে পড়ে আছেন মানুষটা। শরীর নিস্পন্দ। এরপর যা হয়, হুলুস্থুলু কাণ্ড। ডাক্তার এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বললেন, ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।’ এক ধাক্কাতেই ভবলীলা সাঙ্গ।
ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখলাম নাকে তুলো আর চোখে তুলসীপাতা নিয়ে শুয়ে আছেন তথাগতদা। ঠিক যেন ঘুমোচ্ছেন। ঘরভর্তি শোকার্ত মানুষজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে সহসা কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগল নিজেকে। ভদ্রলোক চলে যাওয়ায় পাঠককুলের কতটা ক্ষতি হল জানি না, আমার কিন্তু ক্ষতি হল বিস্তর। সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাসের এক চরিত্রের মতো তিনি ছিলেন আমার সিধুজ্যাঠা। কতদিন লেখার সময়ে নানান বিষয়ে আটকে গিয়ে ফোন করেছি মানুষটাকে। কত কী জানতে চেয়েছি। সেই তিনি আজ আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রাত আটটা নাগাদ শ্মশানঘাটে পৌঁছে দেখি পাঁচখানা মৃতদেহের পরে আমাদের লাইন। লাইনের বহর দেখে তথাগতদার এক আত্মীয় এসে করুণ গলায় আমাকে বললেন, ‘কাল সকাল ন’টায় সেক্টর ফাইভে আমার মেয়ের চাকরির ইন্টারভিউ। প্ল্যান ছিল সঙ্গে যাব। কিন্তু যা লম্বা লাইন দেখছি তাতে মনে হচ্ছে কাজ মিটতে মিটতে রাত প্রায় কাবার হয়ে যাবে। দেখুন না ভাই ম্যানেজ-ট্যানেজ করে কিছু করা যায় কি না।’
আত্মীয়টির অনুনয় আমাকে যেন একটা লোপ্পা ক্যাচের দিশা দেখাল। এক ঢিলে দুই পাখি মারার এই তো সুযোগ। লাইন ভেঙে তথাগতদাকে আগে চুল্লিতে ঢোকাতে পারলে আত্মীয় ভদ্রলোকটির যেমন হিল্লে হবে, তেমনই শেষ যাত্রার সময়ে দাদারও তো সম্মান লাভের আকাঙ্ক্ষাটা পূরণ হবে! সাতপাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত তাই এগিয়েই পড়লাম। শ্মশানের অফিসে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীটিকে বললাম, ‘দেখুন, ইনি মৃত তথাগত লাহার আত্মীয়। কাল সকালে এঁর মেয়ের চাকরির ইন্টারভিউ। সঙ্গে এঁকেও যেতে হবে। এই মুহূর্তে পাঁচজনের পেছনে তথাগতবাবুর লাইন। দেখুন না কিছু করা যায় কি না। ইয়ে মানে যদি কয়েকজনের আগে...!’
আমার কথা বুঝতে পেরে তিরিক্ষি হয়ে উঠলেন কর্মীটি, ‘শ্মশানে কোনও কর্ড লাইন হয় না দাদা। এখানে ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ। যে আগে আসবে সেই আগে ছাই হবে!’
ছাই শব্দটা বুকের গভীরে গিয়ে আঘাত করল। বললাম, ‘আপনি জানেন তথাগত লাহা কে? ভদ্রলোক একজন নামকরা লেখক এবং কবি। কলকাতার হেন কোনও পত্রপত্রিকা নেই যেখানে উনি লেখেননি। সেই সুবাদেই বলছি আগে চুল্লিতে ঢোকার কিন্তু একটা হক আছে ভদ্রলোকের!’
‘রাখুন তো মশাই লেখক-কবি। মৃত্যুর পর আমাদের এখানে সবাই বডি! সেই বডিতে একবার নাম্বার পড়ে গেলে তার আর নড়চড় হওয়ার জো নেই!’
কর্মীটির ঝাঁঝালো কথায় মেজাজটা হঠাৎ বিগড়ে গেল। রুক্ষ গলায় বলে উঠলাম, ‘ডোমের কাজ করেন তো তাই এমন কথা বলতে পারলেন! শুনুন, বডিতে পরিণত হলেও লেখক-কবিদের সম্মান কখনও খর্ব হয় না। বরং তাঁর আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে!’
এক পাঞ্চেই কুপোকাত লোকটা। চাপা একটা ব্যথা নিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। কাজ হবে না বুঝে আমার সঙ্গীটির মুখে হতাশার ছাপ। ভদ্রলোকের বাহু খামচে ধরে ‘চলুন তো’ বলে যখন অফিস ত্যাগের উপক্রম করছি, ঠিক তখনই শ্মশানকর্মীটি সংবিৎ ফিরে পেল যেন। অনুচ্চ স্বরে বলে উঠল, ‘ডোমই বটে, একদম সঠিক কথা! তবে ভাগ্যচক্রে বাংলায় এমএ-টা কিন্তু করেছি দাদা।’
আমি ঢোক গিলে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু তার আগেই দরজার কাছে দাঁড়ানো একটা অল্পবয়স্ক ছেলেকে উদ্দেশ্য করে লোকটা বলে উঠল, ‘ঘণ্টু, যা তো বাবা। শ্মশানের বাগান থেকে তাজা দেখে দু’খানা গোলাপ ফুল তুলে আন তো।’
‘এত রাত্তিরে... গোলাপ!’ শুনেই ঘণ্টু নামের ছেলেটির ভ্রু ধনুক, ‘কী করবে গো কাকা?’
‘ভাজা খাব কাকা! ফালতু না বকে যা বলছি কর। নিয়ে আয় চটপট।’
মিনিট তিনেকের মধ্যেই দু’খানা গোলাপ নিয়ে ঘণ্টু ফিরে এলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল কর্মীটি। গোলাপ দুটো হাতে নিয়ে আমাকে বলল, ‘চলুন, আমিও যাব আপনাদের সঙ্গে।’
আমি তো অবাক, ‘আমাদের সঙ্গে মানে... আমি ঠিক...’
লোকটি হাসল, ‘বুঝছেন না তাই তো? আরে দাদা, তথাগতবাবুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই তো ফুল দুটোকে আনলাম। ভদ্রলোকের লেখা আমি পড়েছি। দারুণ লিখতেন। লাইন ভেঙে এগিয়ে দিতে না পারলেও ফুল দিয়ে ওঁকে শ্রদ্ধা জানানোয় তো কোনও সমস্যা নেই। চলুন, সেই কাজটাই করে আসি।’
কর্মীটির কথায় সহসা দু’চোখ ঝাপসা হয়ে উঠল আমার। কে জানে অলক্ষ্যে থেকে তথাগতদা আমায় বাহবা দিচ্ছেন কি না! আমি তো জানি ডিসকাউন্টের ব্যাপারটা একটা বাহানা মাত্র। মনে মনে আসলে সম্মানই চাইতেন তথাগতদা। আজ সেই সম্মানটা সঙ্গে নিয়েই শেষ যাত্রায় হাসিমুখে বোধহয় তিনি রওনা দিতে পারবেন! এ তো আর যে সে সম্মান নয়, খোদ একজন শ্মশানকর্মীর দেওয়া গোলাপি সম্মান!