লখনউ: ২৭ কোটি বনাম ২৬.৭৫ কোটি! মঙ্গলবারের মহারণ এভাবেই চিহ্নিত হচ্ছিল ক্রিকেট মহলে। ঋষভ পন্থ বনাম শ্রেয়স আয়ারের টক্কর নিয়েই উত্তেজনা বাড়ছিল একানা স্টেডিয়ামে। আর সেই দ্বৈরথে বাজিমাত শ্রেয়সের। ছক্কা মেরে পঞ্চাশে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাব কিংসকে জেতালেনও তিনি। ২২ বল বাকি থাকতে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে জয় এল ৮ উইকেটে। নিলামে ২৬.৭৫ কোটি দর ওঠা শ্রেয়স ৩০ বলে ৫২ রানে নট আউট থাকলেন। মারলেন চারটি ছক্কা ও তিনটি চার। এই জয়ের ফলে দু’টি খেলে ৪ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল পাঞ্জাব।
কিংসদের রান তাড়ার আসল নায়ক অবশ্য প্রভসিমরন সিং। ১৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাবের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে দিগবেশ রাঠির বলে লোপ্পা ক্যাচ তোলেন প্রিয়াংশ আর্য্য (৮)। প্রভসিমরন যদিও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ২৩ বলে পঞ্চাশে পৌঁছন তিনি। পাওয়ার প্লে’তে পাঞ্জাবের ৬২ রানের মধ্যে ৪৫ই আসে তাঁর ব্যাটে। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৬৯ করে আউট হন তিনি। দিগবেশ রাঠির বলে ডিপ মিড উইকেটে রিলে ক্যাচে তাঁকে ফেরান রবি বিষ্ণোই। প্রভসিমরন মারেন ৯টি চার ও তিনটি ছক্কা। তবে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নেহাল ওয়াধেরাকে (নট আউট ৪৩) সঙ্গে নিয়ে শ্রেয়স ১৬.২ ওভারে জয়ের স্টেশনে পৌঁছে দেন পাঞ্জাবকে (১৭৭-২)।
আইপিএল নিলামে রেকর্ড ২৭ কোটি দর ওঠা পন্থ অবশ্য ফের ব্যাট হাতে ব্যর্থ। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ০, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৫ এবং এদিন পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ২ — সময়টা ভালো যাচ্ছে না লখনউ সুপার জায়ান্টস ক্যাপ্টেনের। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই সমর্থকদের চরম হতাশা উপহার দিলেন বাঁ-হাতি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের নির্বিষ ডেলিভারি যেভাবে চামচের মতো করে তুলে দিলেন যুজবেন্দ্র চাহালের হাতে, তা ক্ষমার অযোগ্য। এরপরই নেটদুনিয়ায় শুরু চর্চা, বিপুল দামে তাঁকে নেওয়ার জন্য এলএসজি মালিক হাত কামড়াচ্ছেন না তো!
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লাল মাটির অসমান বাউন্সের পিচে ৭ উইকেটে ১৭১ তুলেছিল লখনউ। নিকোলাস পুরান (৩০ বলে ৪৪), আয়ুশ বাদোনি (৩৩ বলে ৪১), আইডেন মার্করাম (১৮ বলে ২৮), আব্দুল সামাদ (১২ বলে ২৭), ডেভিড মিলার (১৮ বলে ১৯)— কেউই বড় রান পাননি। মিচেল মার্শ (০) ফেরেন প্রথম ওভারেই। পন্থও পাঁচ বলের বেশি থাকেননি। পাওয়ার প্লে’র শেষে লখনউয়ের স্কোর ছিল ৩৯-৩। পুরান ফিরতে ফের চাপে পড়ে যায় ইনিংস। পাঞ্জাবের সফলতম বোলার অর্শদীপ সিং (৩-৪৩)।
মারমুখী মেজাজে প্রভসিমরন