Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জিএসটি ব্যবস্থায় আয় কমছে পুরসভাগুলির, দাবি রিপোর্টে

দেশে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি ব্যবস্থা চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে দেশের পুরসভাগুলির নিজস্ব আয়।

জিএসটি ব্যবস্থায় আয় কমছে  পুরসভাগুলির, দাবি রিপোর্টে
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি ব্যবস্থা চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে দেশের পুরসভাগুলির নিজস্ব আয়। সাম্প্রতিক রিপোর্টে স্পষ্ট করে এমনটাই জানিয়েছে একটি শিল্প উপদেষ্টা সংস্থা। ফলে আর্থিকভাবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে পুরসভাগুলি। সেই খরা কাটাতে তারা করের বোঝা বাড়াক, দাওয়াই সংস্থাটির। তা না-হলে উন্নয়নমূলক কাজ বা  নাগরিক পরিষেবা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়তে পারে পুরসভাগুলিতে।

Advertisement

প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার সরলীকরণের উদ্দেশ্যে চালু হয়েছিল জিএসটি। সেই লক্ষ্য পূরণে বিলুপ্তি ঘটেছে পুরানো একাধিক কর প্রথার। সেই ফাঁদে পড়েছে পুরসভার করও। অকট্রয়, এন্টারটেইনমেন্ট ট্যাক্স, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ট্যাক্সের মতো করগুলির বিলুপ্তি ঘটেছে। তার বদলে যে জিএসটি আদায় হচ্ছে, তা চলে যাচ্ছে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভাঁড়ারে। তথ্য বলছে, পুরসভাগুলি বিভিন্ন উৎস্য থেকে যে আয় করে, তার মধ্যে নিজস্ব কর বাবদ রাজস্ব আদায়ের হার ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ছিল ৪২.৮ শতাংশ। তা ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে নেমে আসে ২৯.৬ শতাংশে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা নামে ২৮ শতাংশে।
তাহলে পুরসভাগুলি চলছে কী করে? রিপোর্টটি বলছে, এক্ষেত্রে তাদের কেন্দ্রীয় সরকারি গ্রান্ট বা রাজ্য সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অর্থাৎ আর্থিকভাবে পুরসভাগুলি সরকারের উপর আরো নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। জিএসটি আইন অনুযায়ী পণ্য ও পরিষেবা কর বাবদ আদায় হওয়া টাকা ভাগ হয়ে যায় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে। পুরসভাগুলিকে তার হকের টাকা দেওয়ার কোনও আইন নেই। রাজ্য সরকারগুলি যদি তার জিএসটির ভাগ থেকে পুরসভাগুলিকে টাকা দিতে চায়, তা দিতে পারে। কিন্তু আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। সংস্থাটির দাবি, দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি চলছে। ফলে রাজ্য সরকারের সাহায্যের প্রবণতাও যে কমবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রিপোর্টটি বলছে, সাধারণ মানুষের গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতা বেশি। তাঁরা আরও বেশি নাগরিক পরিষেবা চাইছেন। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সেই চাহিদা আগামী দিনে পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাহলে উপায়? 
রিপোর্টে যে সুপারিশগুলি করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে রাজস্ব বৃদ্ধির একাধিক প্রস্তাব। সেই তালিকায় রয়েছে সম্পত্তিকরের সংস্কার এবং পরিষেবাজনিত করের সংস্কার। মোট কথা, এই দুটি ক্ষেত্রেই কর বৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই। জল কর, স্যানিটেশন বা পরিচ্ছন্নতাজনিত কর, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকেও কর বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে তারা। কর আদায়ের ব্যাপারে ও হিসাবরক্ষায় স্বচ্ছতা রাখার পাশাপাশি আরো দক্ষভাবে কর আদায় করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে রিপোর্টে।

সম্পর্কিত সংবাদ