Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমকামী সম্পর্কে লেনদেন নিয়ে বিবাদ, পুরুষ সঙ্গীকে খুনে গ্রেপ্তার রেস্তরাঁ কর্মী

আশঙ্কাই সত্যি হল! টালিগঞ্জের ভাড়াবাড়িতে পরিচারক অবিনাশ বাউড়ির (২২) খুনের পিছনে রয়েছে সমকামী যুগলের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলা।

সমকামী সম্পর্কে লেনদেন নিয়ে বিবাদ, পুরুষ সঙ্গীকে খুনে গ্রেপ্তার রেস্তরাঁ কর্মী
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হল! টালিগঞ্জের ভাড়াবাড়িতে পরিচারক অবিনাশ বাউড়ির (২২) খুনের পিছনে রয়েছে সমকামী যুগলের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলা। সোমবার বিকেলে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এবং চারু মার্কেট থানার যৌথ টিম দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুর থেকে এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সাদ্দাম আলম। বছর ৩০-এর সাদ্দাম একসময় পার্ক স্ট্রিটের একটি  নামকরা রেস্তরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ করত। তাকে জেরা করেই রহস্যের কিনারা করে পুলিস। কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার এদিন এই খবর জানিয়েছেন। 

Advertisement

ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জানতে পেরেছে, সমকামীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি ফ্রি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আসানসোলের বরাকরের আদি বাসিন্দা অবিনাশের সঙ্গে আলাপ হয় সাদ্দামের। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ অবিনাশের সঙ্গে দেখা করতে টালিগঞ্জে আসে সাদ্দাম। রাস্তা থেকে সাদ্দামকে পথ দেখিয়ে নিজের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে আসেন অবিনাশ। সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। তদন্তকারীদের কাছে সাদ্দাম দাবি করেছে, শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতিশ্রুতি মতো টাকা দিতে গিয়ে বেঁকে বসেন অবিনাশ। তা নিয়েই দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে। বাগবিতণ্ডা চরমে পৌঁছেলে আচমকাই রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে সাদ্দাম অবিনাশকে খুন করে। তারপর তড়িঘড়ি চম্পট দেয় সে। তাহলে অবিনাশের ঘরে থাকা আলমারি তছনছ করা হল কেন? তদন্তকারীরা মনে করছেন, সম্ভবত পুলিসকে বিভ্রান্ত করতেই এই কাণ্ড করে যায় সাদ্দাম। এমনকী, অবিনাশের মোবাইল ফোনও নিয়ে চলে যায় সে। 
কীভাবে রহস্যের কিনারা করল পুলিস? কলকাতা পুলিসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আততায়ী ওই তরুণ পরিচারকের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে, বোঝার পর সেই ফোনের ‘কল ডিটেইলস রিপোর্ট’ খতিয়ে দেখেন গোয়েন্দারা। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে সাদ্দামের সঙ্গে একাধিক বার ফোনে কথা হয়েছে অবিনাশের। আরও দেখা যায়, ঘটনার সম্ভাব্য সময়ে সাদ্দামের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন চারু মার্কেট এলাকাতেই ছিল। তারপরই  কলকাতা পুলিসের টিম মল্লিকপুর থেকে  গ্রেপ্তার করে সাদ্দামকে। সেই সঙ্গে বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার পুলিসকে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে অবিনাশকে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর ভাড়াবাড়ির দিকে যেতে দেখেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, কলকাতায় সমকামী সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে  খুন এটাই প্রথম নয়। ২০১৩-১৪ সালে যাদবপুর থানা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের মেসে সমকামী সম্পর্কের টোপ দিয়ে ডেকে পাঠিয়ে জীবন বিজ্ঞানের এক শিক্ষককে খুন করা হয়েছিল।  
এদিকে, ধৃত সাদ্দামকে আজ, মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে তোলার কথা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত লালবাজার অবিনাশের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি। তার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ