নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আগামী সোমবার পানিহাটি পুরসভায় বোর্ড মিটিং ডাকলেন পদত্যাগী চেয়ারম্যান মলয় রায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি সমস্ত কাউন্সিলারকে ওই চিঠি পাঠান। ওইদিন দুপুর ১২টার বোর্ড মিটিংয়ে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে এদিন তিনি বলেন, কাউন্সিলাররা কারা আমাকে চায়, কারা চায় না, তা তো পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন পড়লে ওইদিন গোপন ব্যালটে ভোটাভুটিও হবে। তার আগে বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বলেন, খেলা হবে। সব মিলিয়ে তাঁর এহেন বয়ানে পানিহাটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বিস্তর টালবাহানার পর বুধবার সন্ধ্যায় বারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন চেয়ারম্যান মলয় রায়। পদত্যাগ পত্রে লিখেছিলেন, ‘দলনেত্রীর নির্দেশ মেনেই পদত্যাগ করলাম।’ কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের তাঁকে আগের মেজাজে দেখা যায়। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেই বলেন ‘খেলা হবে। সবাইকে ট্রেনিং দেওয়া আছে। তাদের মধ্যে কত জন মাঠে খেলতে পারে সেটাই এখন দেখার। তবে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। খেলা অনেক বড়। কাউন্সিলাররা যার উপর আস্থা রাখবেন তিনিই চেয়ারম্যান হবেন। কোনও জোরের বিষয় নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরতে আমার কোনও সমস্যা নেই।’ এরপর সন্ধ্যায় পুর আইন মেনে আগামী সোমবার ১৭ মে বোর্ড মিটিং ডাকেন পদত্যাগী চেয়ারম্যান। রাতে সেই চিঠি সমস্ত কাউন্সিলাররা পেয়েও যান।
তবে, তাঁর ‘খেলা হবে’ বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুর আইন অনুযায়ী এখনও তিনি চেয়ারম্যান। তবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার পরও এখনও বিভিন্ন ফাইলে তাঁর সই করা কতটা নৈতিক, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকী, বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে এনে দলের মধ্যে তিনি নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। বয়সের ভার ও নিয়মিত ডায়ালেসিসের কারণে অসুস্থ চেয়ারম্যানের পিছনে কি তাহলে বড় কোনও প্রভাবশালীর মদত রয়েছে? সেকারণেই কি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ এবং পুরমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরও চেয়ারম্যান পদে টিকে থাকতে ভোটাভুটিতে যেতে চাইছেন মলয়বাবু? তিনি বলেন, নিয়ম মেনে সোমবার বোর্ড মিটিং ডেকেছি। আমার পদত্যাগ পত্র নিয়ে আলোচনা হবে। পদত্যাগ গৃহীত হবে কি না, কাউন্সিলাররা মতামত দেবেন। পক্ষ ও বিপক্ষ যেহেতু রয়েছে, প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে ভোটও হতে পারে। আইন মেনেই সমস্ত কিছু হবে। বারাকপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ বারিক বলেন, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। তা পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইন মেনে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।