


সংবাদদাতা, বজবজ: দেড়শো বছরের বেশি পুরানো বজবজ দুই ব্লকের বুড়ুলের বাহিরকুঞ্জ শ্মশান। ভাগীরথীর তীরে মাটির গর্তে কাঠের চুল্লির এই শ্মশান ভগ্নপ্রায় ও শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল। রাজ্য সরকারের বৈতরণী প্রকল্পের টাকায় চারপাশ ঘিরে মাথায় ছাউনি দিয়ে পাকাপোক্ত নতুন লোহার কাঠামো দিয়ে চুল্লি তৈরি করা হয় বছর খানেক আগে। এসেছে আলো। কিন্তু এলাকার মানুষ এই নতুন চুল্লিতে প্রথম ধাপে শবদাহে উৎসাহ দেখালেও এখন কেউ এই চুল্লি ব্যবহার করছেন না। বরং মাটির গর্তের উপর কাঠ সাজিয়ে আগের পদ্ধতিতে দাহ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরানো চুল্লিতে একটি দেহ পোড়াতে যতটা কাঠ লাগছিল, নতুন লোহার চুল্লিতে তার থেকে বেশি লাগছে। কাঠের দাম বেড়েছে। তাই শব দাহ করতে বেশি কাঠ লাগলে খরচও বেশি হচ্ছে। যা সকলের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই লোহার চুল্লিতে আগ্রহ নেই।
বুড়ুল গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য বলেন, সরকার ভালো ভাবনা নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হল, যে নকশা অনুসারে লোহার চুল্লি তৈরি করা হয়েছিল। তাতে টেকনিক্যাল ত্রুটি রয়েছে। ফলে ওই নতুন লোহার চুল্লিতে দেহ চাপিয়ে কাঠ সাজানো হচ্ছে তা বেশি করে দিতে হচ্ছে। এটা নিয়ে মানুষের ভিতর একটা ভুল বার্তা গিয়েছে। তাই লোহার চুল্লিতে কেউ দাহ করতে আসছেন না। বিষয়টি পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কাছে ও প্রশাসনের কর্তাদের জানানো হয়েছে। কারণ এই লোহার কাঠামোর নকশা জেলা পরিষদের যাচাইয়ের পর এখানে বসেছিল। যদিও এর সঙ্গে সহমত হতে পারেননি সাতগাছিয়ার বিধায়ক মোহন নস্কর। তিনি বলেন, লোহার চুল্লি নিয়ে কোনো ত্রুটির খবর আমার কাছে নেই। তা ছাড়া একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, দাহ কাজে কাঠ বেশি লাগে। এজন্য দাহ করবে না এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে ওখানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির পরিকল্পনা আছে। বিষয়টি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রস্তাব আকারে দেওয়া হয়েছে। ওটা হলে বজবজ ২ সহ সাতগাছিয়া জুড়ে দাহ কাজের কোনো সমস্যা থাকবে না। -নিজস্ব চিত্র