মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: ‘সারি’ নাচের মাধ্যমে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মা দুর্গার আরাধনায় মগ্ন থাকেন গ্রামের বয়স্ক পুরুষরা। বহু বছর ধরে এই পরম্পরা মেনে আসছেন হবিবপুর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাইবাড়ি সরকারপাড়ার বাসিন্দারা। পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শারদ উৎসব বাঙালির কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব। সেইমতো কলাইবাড়িতে শোনা গেল একটু অন্যরকম আনন্দে মেতে ওঠার কথা। দেবতারা যখন অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, চারিদিকে শুধু হাহাকার সেই সময় বিপদ কাটাতে মা দুর্গার আহ্বান করেছিলেন সকলে মিলে। মা দুর্গা সেইমতো আবির্ভূত হয়ে অসুর নিধন করে সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন দেবতাদের। ঠিক একই রকম ‘সারি’ নাচের মাধ্যমে গ্রামের বয়স্ক পুরুষরা মা কে পারিপার্শ্বিক অভাব, অনটন, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে এবং ভালো ফসল পেতে মা কে আহ্বান করেন পুজোর চার দিন ধরে। সন্ধ্যেবেলা ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে ঢোলোক, কাসি, ঝুড়ি সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র সহকারে সমস্ত বিষয় গানের মাধ্যমে আলাদা আলাদা করে মাকে শোনান তাঁরা। সেই মতো মায়ের কাছ থেকে ফলও পান বলে তাঁদের বিশ্বাস। গান দেখতে পুজো মণ্ডপে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। উপভোগ করেন গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের সকলেই।
তবে কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ‘সারি’ গানের প্রচলন বেশি ছিল। বর্তমানে ধীরে ধীরে তা কমতে বসেছে। কলাইবাড়ির সরকার পাড়ায় অবশ্য সেই রীতি এখনও মেনে চলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে আগামী প্রজন্ম কতদিন এ পরম্পরা ধরে রাখতে পারবে সেনিয়ে প্রবীণরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নিরঞ্জন বিশ্বাস নামে স্থানীয় সারি নাচের শিল্পী বলেন, বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এই প্রথা দেখে আসছি। এলাকার ১০-১২ জন মিলে এখনও প্রতি বছর দুর্গাপুজোয় এই গানের আসর বসানো হয়। দশমীতে বুলবুলচণ্ডীর দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনে প্রতিবছর গান করতে যাই। এই বছরও যাব।