


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২ লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকা ডিভিডেন্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এই বিপুল টাকা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার বাজেট পেশের সময় তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, দেশের আর্থিক ঘাটতির হার জিডিপির ৪.২ শতাংশ হতে পারে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া তাদের একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, আরবিআইয়ের এই লভ্যাংশ ঘোষণার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক ঘাটতি আরও ২০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে চার শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আরও ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে সমর্থ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এসবিআই। তারা মনে করছে, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতকে এগিয়ে আসতে সাহায্য করবে এই সিদ্ধান্ত।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। তার আগের অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর থেকেই স্পষ্ট, আর্থিকভাবে অনেকটাই সুবিধাজনক জায়গায় আছে আরবিআই। তারা দাবি করেছে, তাদের মোট সম্পদের ৭.৫ শতাংশ সরিয়ে রাখা হয়েছে ‘কনটিনজেন্সি রিস্ক বাফার’ হিসেবে। এর অর্থ, আর্থিকভাবে আচমকা যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তা সামাল দেওয়ার জন্য একটি বড় অঙ্কের টাকা সরিয়ে রাখা হয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাতে থাকা সম্পদের মূল্য কমে যাওয়া, বিনিয়োগে যথাযথ রিটার্ন না আসার মতো খামতিগুলিও ঢাকা হয় ওই টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সেই হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। করোনাকালে তা ৫.৫ শতাংশ ছিল। তারপর থেকে ধাপে ধাপে ‘বাফার’ বাড়াতে শুরু করেছে আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কটি দাবি করে, বেশি দরে ডলার বিক্রি, সুদ বাবদ আয় বৃদ্ধি এবং বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে সুবিধাজনক পরিস্থিতি থাকার ফলেই এই বিপুল আয় হয়েছে তাদের। তারই একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে ডিভিডেন্ড হিসেবে দিয়েছে তারা।
এদিন এসবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের অঙ্ক ছিল ৭০ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার। মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষায় তার একটি বড় অংশ বিক্রি করে দেয় আরবিআই। জানুয়ারি মাসে এই ব্যাঙ্ক যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে দেয়, এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নিরিখে তা ছিল সর্বোচ্চ। সেই পদক্ষেপ আরবিআইয়ের কোষাগারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করেছে এসবিআই।