


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘অবিলম্বে বাংলার জবকার্ড হোল্ডারদের জন্য কর্মদিবস অনুমোদন করতে হবে। দিতে হবে কাজও।’ কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর একসপ্তাহ কাটতে চলেছে। কিন্তু ‘বোধোদয়’ হয়নি মোদি সরকারের। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরও তাই ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য নেওয়া হল নয়া কৌশল— গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে নতুন করে জমা দিতে হবে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (এটিআর)। সেটাও একমাসের মধ্যে। কারণ, এই প্রকল্পে হওয়া অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজ্যের নেওয়া পদক্ষেপ ‘সন্তোষজনক নয়’। গত ১১ নভেম্বর রাজ্যকে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ‘...সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১১ জুলাই রাজ্যের পাঠানো এটিআরকে সন্তোষজনক নয় বলেই মনে করেছে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রমাণ মেলেনি ১৯ জেলায়।’ এ থেকেই পরিষ্কার যে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনই বাংলায় কার্যকর হওয়া মনরেগা আইনের ২৭ নম্বর ধারা তুলতে নারাজ মোদি সরকার। ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে রাজ্যে প্রকল্প শুরুর বিষয়টি।
বৃহস্পতিবার সংসদে ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’র (পিএসি) বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প। বিশেষ সূত্রে খবর, আলোচনায় বাংলার প্রসঙ্গ তোলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য শক্তিসিং গোহিল। তাঁর প্রশ্নের জবাবে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শৈলেশ কুমার সিং অবশ্য জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্টের রায় মেনে শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু করব। যদিও কবে থেকে, তা স্পষ্ট করেননি।
নবোন্নের দাবি, রাজনৈতিক কারণে টাকা আটকে রাখতেই আদালতের নির্দেশের পর ফের এটিআর চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এপ্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘এই চিঠি এবং তাতে করা কেন্দ্রের প্রতিটি দাবি একেবারে ভিত্তিহীন। কারণ, অনিয়মের অভিযোগে একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৫টির বেশি এটিআর জমা দিয়েছি। পুনরুদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৬ কোটি টাকাও। সবটাই হয়েছে ই-ট্রান্সফারের মাধ্যমে। ফলে আমাদের দাবি প্রমাণ করতে কোনও সমস্যা হবে না।’ তবে উত্তর পাঠানোর আগে রাজ্য সরকার আইনি পরামর্শও নিতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
রাজ্যের মনরেগা কমিশনারকে দেওয়া কেন্দ্রের আন্ডার সেক্রেটারি দীপক কুমারের দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, ‘পূর্ব বর্ধমান জেলার একজন নির্ণয় সহায়ক এবং একজন নির্বাহী সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এখনও চলছে। তা দ্রুত শেষ করে মন্ত্রককে জানাতে হবে। আউশগ্রাম-২ ব্লকের এরাল ও রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে যথাক্রমে ৯৮.৪৫ লক্ষ এবং ৩১.৪৭ লক্ষ টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু দোষীদের চিহ্নিত করা হয়নি। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১ কোটি ৫৩ লক্ষ এবং হুগলি জেলায় ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফিল্ড অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। শীর্ষ আধিকারিকরাও জড়িত কি না, সেব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে।