Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরপর ছিনতাই, কলকাতায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাবারিয়া গ্যাং

বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাই বা জাতীয় সড়কের উপর ডাকাতি, লুটপাটের জন্য কুখ্যাত মহারাষ্ট্রের বাবারিয়া গ্যাং। এই গ্যাংয়ের দাপট বাড়তে শুরু করেছে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলায়।

পরপর ছিনতাই, কলকাতায়  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাবারিয়া গ্যাং
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাই বা জাতীয় সড়কের উপর ডাকাতি, লুটপাটের জন্য কুখ্যাত মহারাষ্ট্রের বাবারিয়া গ্যাং। এই গ্যাংয়ের দাপট বাড়তে শুরু করেছে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলায়। পার্কিং লট থেকে বাইক চুরি করে সেই বাইক নিয়ে ছিনতাই চালাচ্ছে তারা। কোথাও অল্প কিছুদিন কাটিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য রাজ্যে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কমিশনারেট এলাকায় একাধিক ছিনতাইয়ের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সূত্রে সম্প্রতি তারা মহারাষ্ট্রের ঢুলে সংশোধনাগার থেকে বাবারিয়া গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে কলকাতায় নিয়ে এসেছে। তাদের জেরা করে এই গ্যাংয়ের সক্রিয়তা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। 

Advertisement

কলকাতা শহরে গত কয়েকমাসে সাতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বাইকে চেপে আসছে দুষ্কৃতীরা। বাইকের নম্বর ধরে তদন্ত এগলে দেখা যায়, সবক’টি বাইক চুরি যাওয়া। বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাইয়ের পর সেই বাইক ফেলে চম্পট দিচ্ছে অপরাধীরা। সিসি ক্যামেরায় দুষ্কৃতীদের ছবি ধরা প঩ড়ে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, অভিযুক্তরা এই রাজ্যের নয়। ভিন রাজ্য থেকে এসে এখানে অপরাধ করে পালাচ্ছে। আবার কয়েক মাস পর এসে রাজ্যের অন্য কোনো প্রান্তে ছিনতাই বা লুটপাট করছে। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের কুখ্যাত বাবারিয়া গ্যাং এই ছিনতাই চালাচ্ছে। তাদের টিমে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের যুবকরা। বিভিন্ন জায়গায় তারা মূর্তি ছিনতাই, লুট বা ডাকাতি করছে। হাইওয়ের উপর অপরাধে তাদের দক্ষতা সর্বাধিক। যে কোনো রাজ্যে গিয়ে তারা শ্রমিক সেজে  অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে। শহরে অপরাধ করলেও তারা ডেরা বাঁধে শহরের বাইরে। এলাকা রেকি করার পর পরিকল্পনা মাফিক ‘অপারেশন’ চালায়। হাতে থাকে লোহার রড। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর মাথা তাদের ‘টার্গেট’ হয়।
ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের কাছে খবর আসে, বাবারিয়া গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য মহারাষ্ট্রে ধরা পড়েছে। তারা এখন ঢুলে সংশোধনাগারে রয়েছে। এখানে সিসি ক্যামেরায় অভিযুক্তদের যে ছবি ধরা পড়েছিল, তা মহারাষ্ট্র পুলিশকে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা নীতীন কিষাণ কুমার ও সঞ্জু শর্মাকে চিহ্নিত করে। আদালতের নির্দেশক্রমে মহারাষ্ট্রের জেলে গিয়ে দু’জনকে কলকাতায় নিয়ে আসে লালবাজার। 
ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, তারা শহরে একের পর ছিনতাই করে বেড়াচ্ছিল। প্রতিটি ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক ছিল চুরি করা। কলকাতা ছাড়াও বরানগর, হাওড়ায় বেশ কিছু ছিনতাই করেছে। লুটপাটও চালিয়েছে হাইওয়েতে। এখানে কয়েকমাস কাটিয়ে চলে গিয়েছিল মহারাষ্ট্র। সেখানে একই অভিযোগে ধরা পড়ে। কলকাতা সহ এই রাজ্যে কোথায় তাদের কতজন শাগরেদ রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

সম্পর্কিত সংবাদ