


সংবাদদাতা, বজবজ: সম্প্রীতি উড়ালপুল সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কয়েকমাস আগে। কিন্তু তা এখনও পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। এর সংস্কার শুরুর সময় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংস্কারের পরেও এখনও কেন উড়ালপুল আগের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে- তা এলাকাবাসীরা জানতে চাইলেও প্রশাসনিক স্তরে কোনো উত্তর নেই। ফলে বিরক্ত বাসিন্দারা। কবে উড়ালপুল পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আমজনতা। এর মধ্যে বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম এই নিয়ে সমালোচনাও শুরু করে দিয়েছে।
মহেশতলা, বজবজ ও পুজালি এই তিনটি পুরসভার মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের পথ হল সম্প্রীতি উড়ালপুল। জিনজিরা বাজার থেকে মহেশতলার বাটা মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপুলের সংস্কার শুরু হয়েছিল গত ২০২৫-এর মার্চ মাসে। শুরুতে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এনিয়ে হইচই হওয়ায় পরবর্তী পর্যায়ে ঠিক হয়, দিনের বেলায় সকাল ছ’টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত হালকা, চার চাকার ছোট গাড়ি চলবে। কোনও মোটরবাইক চলবে না। রাত দশটার পর থেকে পরদিন সকাল ছ’টা পর্যন্ত সমস্ত ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
তখন সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। এরপর উড়ালপুল পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনমাসের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়নি। কারণ গোটা রাস্তার পিচের আস্তরণ তুলে নতুনভাবে সংস্কার করতে সময় লেগে যায়। এর ভিতর আচমকা বৃষ্টির দাপটে কাজ বন্ধও ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে সংস্কার শেষ হয়ে যায়। ঠিক হয়েছিল, নতুন বছরের জানুয়ারিতে তা খুলে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। তারপর দু’মাস কেটে গিয়েছে। এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই উড়ালপুল পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, উড়ালপুলের উপর কেএমডিএ-র বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থা তাদের মালপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে দিয়েছে। তারা সেগুলি সরাচ্ছে না বলেই উড়ালপুল বন্ধ। মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাসও বিরক্ত এনিয়ে। তিনি বলেন, অত্যন্ত অসুবিধা হচ্ছে। কেএমডিএ-র উপরমহলে চিঠি লিখে বিষয়টি জানানো হচ্ছে, যাতে মালপত্র সরিয়ে উড়ালপুল খুলে দেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র