


ঢাকা: লালন ফকিরের বাংলাদেশে কি এবার গান-বাজনাও বন্ধ হতে চলেছে? গত বছর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই সঙ্গীতশিল্পী রাহুল আনন্দের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর এবার বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে গানের শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না বলে ‘ফতোয়া’ জারি করলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ ফয়জুল করিম। তাঁর হুঁশিয়ারি, কোনও অবস্থাতেই গানের শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না। তার বদলে নিয়োগ করতে হবে ধর্মীয় শিক্ষক। সম্প্রতি ঢাকায় সংগঠনের এক কর্মসূচি থেকে করিম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি বাংলাদেশে প্রাইমারি লেভেলে গানের শিক্ষক নিয়োগের দুঃসাহস দেখান, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আপনাকে জবাব দেবে।’ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে রমরমা বেড়েছে মৌলবাদীদের। এর আগেও একাধিকবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহিলাদের ফুটবল ম্যাচে হাঙ্গামা চালিয়েছে তারা। ভাঙা হয়েছে অজস্র হিন্দু মন্দির। তবে এভাবে প্রকাশ্য সভা থেকে সরাসরি ইউনুসকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ইসলামি আন্দোলনের প্রধান বলেন, ‘আপনি (ইউনুস) নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলছেন। আওয়ামি লিগ প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মুসলমানদের আন্দোলনের কারণে তা করতে পারেনি। আপনি ভারতের এজেন্ডা পালন করবেন কেন? গান-বাজনা ভারতের সংস্কৃতি, বাংলাদেশের নয়।’ করিমের দাবি, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। যদি নিয়োগ করতে না চান, তাহলে আমরা সরকারকে বাধ্য করব।’ ফাইল ছবি