নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: টানা বৃষ্টিতে জল থই থই অবস্থা বনগাঁর বিস্তীর্ণ এলাকার। কার্যত বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ইচ্ছামতী। আর নদীর জল উপচে জলে ভাসছে বনগাঁ শহর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিরাপদ ত্রাণ শিবিরে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বনগাঁ শহরে বেড়েছে ত্রাণ শিবির। টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষে। ক্ষতি হয়েছে ধান চাষেও।
জানা গিয়েছে, বনগাঁ শহরে সিংহভাগ ওয়ার্ড ইছামতীর তিরে অবস্থিত। কিন্তু ইছামতী সংস্কার না হওয়ায় জল সঠিকভাবে প্রবাহিত হয়নি। ফলে, বনগাঁ শহরের ১৪টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। বাকি ওয়ার্ড আংশিক জলমগ্ন। আগে শহরে চলছিল সাতটি ত্রাণ শিবির। কিন্তু, নতুন করে জল বাড়ায় বেড়েছে ত্রাণ শিবির। মোট ১৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে শহরে। সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যে সমস্ত ওয়ার্ডে জল জমে আছে, সেখানে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। সেই এলাকায় গিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ নিজে হাঁটু সমান জলে নেমে মানুষের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। এনিয়ে গোপালবাবু বলেন, আমাদের শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলের তলায়। আমরা নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে এনেছি। তাঁদের শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জলমগ্ন এলাকায় কাউন্সিলারদের সঙ্গে নিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া চলছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাষে। বনগাঁ মহকুমার কয়েক হাজার হেক্টর জমি জলের তলায়। শুধুমাত্র বনগাঁ পুরসভা এলাকায় জলমগ্ন শতাধিক হেক্টর চাষের জমি। বনগাঁ নতুন গ্রামে বিঘার পর বিঘা জমির আমন ধান জলে ডুবে গিয়েছে। স্থানীয় চাষী সুজিত রায় বলেন, ‘দু’বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করি। পুরো জমি জলের তলায়। জানি না কি করে খরচের ধাক্কা সামলাব।’ গাইঘাটায় ফুল চাষেও ক্ষতি হল টানা বৃষ্টিতে।