Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যজুড়ে আলুর রেকর্ড ফলনের আশা

শীতকালে আবহাওয়া অনুকূল ছিল। প্রকৃতি আরো কিছুদিন সদয় থাকলে রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হবে এবারো। মত বিশেষজ্ঞদের।

রাজ্যজুড়ে আলুর রেকর্ড ফলনের আশা
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: শীতকালে আবহাওয়া অনুকূল ছিল। প্রকৃতি আরো কিছুদিন সদয় থাকলে রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হবে এবারো। মত বিশেষজ্ঞদের। কম তাপমাত্রা, বৃষ্টি নেই। এই পরিস্থিতি আলুচাষের জন্য আশীর্বাদ। রাজ্যে এবার শীতকাল কাটছে সেরকমই। আলুচাষের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্ৰি সেলসিয়া বা তার কম থাকলেই ভালো। এবার আলু উৎপাদক  জেলাগুলিতে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এর অনেকটাই নীচে ছিল। ঘন কুয়াশা ও মেঘলা দিন আলুচাষের জন্য ক্ষতিকর। এদিকটাও বাঁচিয়ে দিয়েছে এবার। এমাসের বাকি দিনগুলির আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আলুর ফলন গতবছরকে ছাপিয়ে যাবে। আশা করছে ব্যবসায়ী মহল। গতবছর রাজ্যে প্রায় ১ কোটি টন আলু হয়েছিল এবং ৫৯০টি হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল তা রেকর্ড পরিমাণে (৭৪ লক্ষ টন)। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় জানান, এবার উৎপাদন এক কোটি টন ছাড়াতে পারে। মজুত হতে পারে ৮০ লক্ষ টন। 

Advertisement

গতবছর রাজ্যের চাহিদার অতিরিক্ত আলুই সংরক্ষণ করা হয়। ভিন রাজ্যেও আলু গিয়েছে। তা সত্ত্বেও চাহিদা মেটাতে কোনো সমস্যা হয়নি। বাজার দরেও পড়েছিল ইতিবাচক প্রভাব। এবারও কম দামে ক্রয়ের সুযোগ মিলবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানুয়ারির আগে থেকেই নতুন আলু উঠছে। এখন বেশি উঠছে এবং সরাসরি আসছে বাজারে। হিমঘরে আলু এখনো রয়েছে কিছুটা। সেটাও বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা এখন মোটামুটি ৮-৯ টাকা কেজি দরে নতুন আলু বেচছেন। যদিও কলকাতায় কিনতে হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়। হিমঘরে আলুর মজুত প্রক্রিয়া শুরু হবে ১ মার্চ। হিমঘরে সংরক্ষণের জন্য আলু তোলা শুরু হবে এমাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে। বাম্পার ফলন হলে নতুন আলুর কী দাম চাষিরা পাবেন, তা নিয়ে অবশ্য  অনিশ্চয়তা আছে। তাই চাষির স্বার্থে দাবি উঠেছে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য (এমএসপি) ঘোষণাসহ নিজ উদ্যোগে কিছু আলু কিনুক সরকার। 
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে অবশ্য বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাষির স্বার্থ নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্য সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। হিমঘর মালিকদের সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাষির থেকে আলুক্রয়েরও ব্যবস্থা হয়েছে অতীতে। কৃষি বিপণন দপ্তর ও তাদের সুফল বাংলা স্টল মারফত বিক্রির জন্য চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি আলু কেনা হয়েছিল। সব মিলিয়ে অনেকটাই উপকৃত হয়েছিলেন চাষিরা।

সম্পর্কিত সংবাদ