


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছর অক্ষয় তৃতীয়াতে দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছিল। সেই শুভ মুহূর্তের বর্ষপূর্তিতে দীঘা মন্দির চত্বরে নানা আয়োজনও হয়েছে। আর এই এক বছরে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ছাড়াল! এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, গত ৩০ এপ্রিল দ্বারোদ্ঘাটনের পরবর্তী এক বছরেই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছে জগন্নাথ মন্দির। যে মন্দিরের দৌলতে ‘সৈকতসুন্দরী’ দীঘা আজ আর স্রেফ পর্যটনকেন্দ্র নয়, বাংলার অন্যতম তীর্থস্থানও বটে।
গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন। তারপর থেকে আমূল বদলে গিয়েছে সৈকত-শহরের হালচাল। নেমেছে জগন্নাথ ভক্তের ঢল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নির্মিত হলেও উদ্বোধনের পর মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব ‘জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’ নামক ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরের ট্রাস্টি তথা কলকাতা ইসকনের সহ সভাপতি রাধারমণ দাস বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ৩৩ লক্ষের বেশি ভক্তের আগমন শুধু একটা সংখ্যা নয়, জগন্নাথদেবেরর অসীম কৃপা ও মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন।’
জানা গিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বরই মন্দিরে আগত ভক্তের সংখ্যা এক কোটি ছুঁয়েছিল। তারপর চার মাসে আরও ৩৩ লক্ষের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। অক্ষয় তৃতীয়ায় দীঘার জগন্নাথ ধামের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান ও গৌর-নিতাই বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হল জগন্নাথদেবের বাম পাশে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও নিতাইয়ের বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা। এদিন মন্দির চত্বরে বিশেষ যজ্ঞ ও পূজাপাঠ হয়। বিগ্রহকে স্নান করিয়ে বিশেষ রাজবেশ পরানো হয়। পুরীর রীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে চন্দন যাত্রা এবং অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। বর্ষপূর্তিতে রেকর্ড সংখ্যক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো ব্যবসা। মন্দিরের কাছাকাছি এলাকায় মাথা তুলেছে নতুন হোটেলও। রাধারমণ দাস আরও বলেন, ‘এই ধাম লক্ষ লক্ষ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকাতেও নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড়ো উদ্যোগ—সমস্ত ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ সব মিলিয়ে এই মন্দির এলাকার সার্বিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। কোনো বিশেষ দিনে মন্দিরে ভক্ত সমাগম বাড়লে বাড়তি উপার্জনের আশায় থাকেন ছোটো-বড়ো ব্যবসায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে টোটোচালক বা খেলনা বিক্রেতারা।