নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোদি জমানায় প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে ব্যাঙ্কে! আর তা ফিরে গিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কোষাগারে। কাদের এই টাকা? কারও সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারও ফিক্সড ডিপোজিট, কারও ডি ম্যাট—অনেকেই আছেন, জমা দেওয়ার পর সেই টাকা তোলেননি। গ্রাহকের মৃত্যু হয়েছে, অথচ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কোনও নমিনি নেই। এমন পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর পড়ে থাকে টাকা। আর মেয়াদি আমানতের সময়সীমা শেষ হওয়ার ১০ বছর পর তা চলে যায় আরবিআইয়ের ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ফান্ড নামক তহবিলে। নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই অঙ্কটাই দাঁড়িয়েছে অন্তত ৮৬ হাজার কোটি টাকায়। সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কোনটিতে কত টাকা দাবিহীনভাবে পড়ে রয়েছে, তার পাঁচ বছরের তথ্য দেওয়া হোক। অর্থমন্ত্রক কিন্তু সেই উত্তর এড়িয়ে গিয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শেষ হিসেব বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাঙ্কগুলিতে দাবিহীন টাকার পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন করে দাবিহীন ৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে। অর্থাৎ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট দাবিহীন টাকার অঙ্ক ৮৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই হিসেবে কিন্তু বেসরকারি ব্যাঙ্কের খাতায় জমা থাকা দাবিহীন টাকা ধরা হয়নি। তাহলে অঙ্কটা আরও বাড়বে। এবার সেই টাকাই গ্রাহক, তাঁর নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীকে ফেরানোর উদ্যোগই শুরু হতে চলেছে।
দাবিহীন টাকা তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ফরম্যাট’ তৈরি হবে। সেটির ভিত্তিতেই প্রত্যেকে আবেদন করবেন। আবেদনের সঙ্গেই নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে আবেদনকারীকে। ব্যাঙ্ক সেই তথ্য খতিয়ে দেখবে। আগামী অর্থবর্ষ থেকে গোটা বিষয়টি অনলাইনে আসবে বলে দাবি করেছেন ব্যাঙ্ক কর্তারা। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিও যাতে ওই নীতি মেনেই টাকা ফেরত দেয়, সেই বিষয়ে উদ্যোগী হবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন। কোন গ্রাহকের কত টাকা দাবিহীন পড়ে রয়েছে, সেই হিসেব প্রতিটি ব্যাঙ্ক তাদের ওয়েবসাইটে দেবে। সেখানে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য থাকবে। গ্রাহক, নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীরা সেই মতো উদ্যোগ নিতে পারবেন।