Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

রাবণ

রৌ + অণ্ করে ‘রাবণ’ শব্দ নিষ্পন্ন। যা জীবের অধোগতি ঘটায়, যা জীবকে রৌরব নরকের পথে ঠেলে দেয় তা-ই রাবণ। বস্তুতঃ অধঃপতিত স্থূলত্বপ্রাপ্ত মন যা দশ দিকে কাজ করে চলে তা-ই রাবণ। এখানে রাবণ হ’ল এক পৌরাণিক কল্পনা—ঐতিহাসিক সত্তা নয়।

রাবণ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রৌ + অণ্ করে ‘রাবণ’ শব্দ নিষ্পন্ন। যা জীবের অধোগতি ঘটায়, যা জীবকে রৌরব নরকের পথে ঠেলে দেয় তা-ই রাবণ। বস্তুতঃ অধঃপতিত স্থূলত্বপ্রাপ্ত মন যা দশ দিকে কাজ করে চলে তা-ই রাবণ। এখানে রাবণ হ’ল এক পৌরাণিক কল্পনা—ঐতিহাসিক সত্তা নয়।

Advertisement

সংস্কৃত সাহিত্যের চারটি বিভাজন রয়েছে—(১) কাব্য (ঘটনার এক চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনা), (২) পুরাণ (কাল্পনিক, কিন্তু শিক্ষাপ্রদ গল্প), (৩) ইতিকথা (ঘটনার তত্ত্ব-তথ্যগত পঞ্জীকরণ) ও (৪) ইতিহাস (শিক্ষাগত মূল্য রয়েছে এমন বাস্তব ঘটনার পঞ্জীকরণ)। মহর্ষি বেদব্যাস লিখেছিলেন আঠারটি পুরাণ। সবই কাল্পনিক গল্প। তাদের কোন কোনটি হয়তো স্বীকৃত দর্শনের বিরুদ্ধেও গেছে। তাই বেদব্যাস শেষ পর্যন্ত একটি শ্লোকে পরমপুরুষের কাছে ক্ষমা ভিক্ষাও করেছেন।
“রূপং রূপবিবর্জিতস্য ভবতো যদ্ধ্যানেন কল্পিতম্।
স্তুত্যাঽনির্বচনীয় অখিলগুরো দূরীকৃতা যন্ময়া।
ব্যাপিত্বং চ নিরাকৃতং যৎ তীর্থযাত্রাদিনা।
ক্ষন্তব্যং জগদীশো তদ্বিকলতাদোষত্রয়ং মৎকৃতম্।।”
এই বিশ্বে সবচেয়ে ভাস্বর সত্তা কোনটি? —না, সেই ভাস্বর সত্তাটি হচ্ছেন পরমপুরুষ। কারণ, ব্রহ্মচক্রের ভূমাকেন্দ্র থেকেই যাবতীয় সত্তা তাদের শক্তি পেয়ে থাকে! তিনিই সবচেয়ে প্রোজ্জ্বল সত্তা, আলোকোজ্জ্বল সত্তা। ছোট বড় সব কিছুরই রয়েছে এক একটা বৃত্তাকার সংরচনা। একটা ছোট্ট পরমাণু—তারও একটা নিয়ন্ত্রণ-কেন্দ্র রয়েছে আর সেই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের চারপাশে ঘুরে চলেছে বহুসংখ্যক বিদ্যুতণু। চন্দ্র ঘুরছে পৃথিবী গ্রহের চারপাশে, আর অন্যান্য গ্রহেরা ঘুরছে সূর্যের চারপাশে, অন্যান্য আর সমগ্র সৌরসংরচনাটা ঘুরে চলেছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্যমণি পরমপুরুষের চারপাশে। কাজেই পরমপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সূর্যেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে! এই যে আমাদের বহু পরিচিত বিদ্যুৎ বা ইলেক্ট্রিসিটি, এও সূর্যের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শক্তি পেয়ে থাকে। অন্যান্য জ্যোতিষ্কসমূহও সূর্যের কাছ থেকে শক্তি পেয়ে থাকে। একমাত্র পরমপুরুষই হলেন বিশ্বের জ্যোতিষ্মান্ সত্তা আর বাকী সবাইকার আলোক হ’ল তাঁরই প্রতিফলিত জ্যোতিঃ মাত্র। তিনিই হলেন বিশ্বের সবচেয়ে জ্যোতিষ্মান সত্তা।
শক্তিকে খালি চোখে দেখা যায় না। বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে, পাখা ঘুরছে ইত্যাদি দেখে শক্তির ক্রিয়ান্বিত রূপকে বুঝতে পারি। ঠিক তেমনি কেউ কখনও সূর্যকে প্রত্যক্ষ করে নি, দেখেছে তার ক্রিয়াগত অভিব্যক্তিকে। বহু দূর থেকে দেখলে সূর্যকে গোলাকার দেখায় কিন্তু কাছে থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড। তাই বিদ্যুৎ, সূর্য—এরা সবাই অনুভব করবার জিনিস। মন সম্বন্ধেও ওই একই কথা প্রযোজ্য। কেউ কখনও মনকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে না।   
শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির ‘আনন্দ বচনামৃতম্’ (৩য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ