নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শাসক-বিরোধী সহাবস্থানে সমারোহের সঙ্গেই রামনবমী পালিত হল। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় রবিবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই রামনবমী উদযাপনে মেতে ওঠেন। শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। শুভেচ্ছা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বাগবাজারে হনুমান মন্দিরে পুজো দেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পর্যন্ত রামনবমীর শোভাযাত্রায় সব ধর্মের মানুষ পা মেলান। বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি কলকাতার বুকে সব মিলিয়ে ৪৩টি মিছিল করে। কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা বলেন, ‘শহরে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সর্বত্র পর্যাপ্ত পুলিস ছিল।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেও রাম পুজো হয়। জেলার বিভিন্ন জায়গায় ধ্বজার পাশাপাশি অস্ত্র মিছিল চোখে পড়েছে। এন্টালিতে রামনবমীর মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন বাংলাদেশে ধৃত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
হুগলিতে বিজেপি, বিশ্বহিন্দু পরিষদ সহ একাধিক সংগঠন বিভিন্ন ব্লক, পঞ্চায়েতে শোভাযাত্রা করেছে। সর্বত্রই ত্রিশূল, তরোয়াল, লাঠি নিয়ে মিছিল হয়েছে। তবে তা সংখ্যায় কম। চুঁচুড়ায় রাম-সীতার ছবি নিয়ে শোভাযাত্রা করেছে তৃণমূল। অস্ত্রের দাপাদাপি দেখা গিয়েছে ভাটপাড়ায়। তরোয়াল সহ নানা অস্ত্র হাতে মিছিল হয়েছে সেখানে। জগদ্দল, টিটাগড়, গাড়ুলিয়া, নৈহাটি, দমদম, কামারহাটি সহ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রবিবার বারাকপুরের শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী তাঁদের দলে যোগ দিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় খড়দহ হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে মিছিলে পা মেলান। সম্প্রীতির চিত্র দেখা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। রামনবমীর মিছিলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনকেও দেখা গিয়েছে। শওকত মোল্লাও পা মিলিয়েছেন। বারুইপুর শহরে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলে ত্রিশূল, লাঠি, তরোয়াল চোখে পড়েছে। মহেশতলার বাটা মোড়ের কাছে পুলিসের ব্যারিকেড ভেঙে স্লোগান দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের জন্য রাস্তা অবরোধ করা হলেও পরে তা উঠে যায়।
হাওড়ায় এদিন কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত মিছিল করে অঞ্জনিপুত্র সেনা সংগঠন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, মিছিলে সর্বাধিক পাঁচশো লোক থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিকেলে বি গার্ডেন হাওড়া ময়দান পর্যন্ত মিছিল করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে গোটা এলাকা মুড়ে রেখেছিল হাওড়া সিটি পুলিস। সালকিয়ার নন্দীবাগান থেকে রাম-সীতার মন্দির পর্যন্ত মিছিল করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাতে অংশ নিয়েছিলেন উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে সকল ধর্ম এক।’ কল্যাণী, হরিণঘাটা ও চাকদহ শহর ও ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল হয়েছে। কল্যাণী শহরের কাঁঠালতলায় বিজেপির এক যুবনেতা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটাতেও মিছিল হয়। বারাসতের ময়না এলাকা থেকে কলোনি মোড়, ডাকবাংলো হয়ে মিছিল শেষ হয় চাঁপাডালি মোড়ে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ। তবে যানজটের জেরে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে যায়।