


ভাইয়ের হাতে বেঁধে দেওয়া একফালি সরু সুতো। এই বন্ধন চিরকালীন। ভাইফোঁটার মতো রাখির জন্যও বছরভরের অপেক্ষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন উৎসবের সূচনা করেছিলেন। শুধু ভাইয়ের হাতে বোনের বেঁধে দেওয়া রাখি নয়। এই বন্ধন সকলের। ভ্রাতৃত্বের, সমমনস্কতার, ভালো থাকার বন্ধন। উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উপহার। রাখিও ব্যতিক্রম নয়। বাজেট বুঝে উপহার কিনে নিন। কেমন হতে পারে উপহারের ধরন? তারই কিছু পরামর্শ রইল।
বোন বা দিদির জন্য উপহার
শাড়ি: সামনেই দুর্গাপুজো। এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইলে, জমকালো একটা শাড়ি উপহার দিন। বিভিন্ন বুটিকে দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে নানা অফার চলছে। ফলে আপনার পকেটের দিকটাও বজায় থাকবে। আর শাড়ি যে কোনও মহিলাই পছন্দ করেন। তাই এই উপহার বোন বা দিদিকে নিরাশ করবে না।
ব্যাগ: আপনার দিদি যদি কর্মরতা হন, তাহলে একটা অফিস ব্যাগ গিফট হিসেবে দিতে পারেন। অনলাইনেও রকমারি ব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। ভিতরে ল্যাপটপ সহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিস যাতে রাখা যায়, তেমন দেখেই কিনবেন। সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকলে অনেক কিছু ব্যাগে রাখার প্রয়োজন হয়। আপনার দেওয়া উপহার যাতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে, খেয়াল রাখবেন।
প্রসাধনী: সুগন্ধে ভরপুর থাকতে তো সকলেই পছন্দ করেন। বোনের পছন্দমতো সুগন্ধি উপহার দিন। মেকআপের কিছু প্রয়োজন হলে তাও উপহারে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার বোন কোন ধরনের মেকআপ ব্যবহার করেন, সেটা জেনে নিন। কারণ সব ধরনের মেকআপ সকলের সহ্য হয় না। উপহারের জিনিস কাজে না লাগলে কিন্তু খারাপই লাগবে। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়া ভালো।
গয়না: গয়না শুনেই যেন সোনার কথা ভাববেন না। সোনার দাম এখন অনেকেরই সাধ্যের বাইরে। তাই বিভিন্ন ধরনের কস্টিউম জুয়েলারিতে নিজেদের সাজাতে পছন্দ করেন বিভিন্ন বয়সের মহিলা। আপনার দিদি বা বোনের জন্য এই ধরনের উপহার কিনতে পারেন। আর বাজেট থাকলে সোনা, হীরে, রুপোর মতো ধাতুর গয়নাও দিতে পারেন প্রিয় মানুষটিকে।
দাদা বা ভাইয়ের জন্য উপহার
ঘড়ি: উপহারের তালিকায় পুরুষরা অনেক গোলে মহিলাদের কাছে হারবেন। চিরকাল মেয়েদের উপহার দেওয়ার অপশন বেশি। তবে পুরুষদের উপহারের তালিকার উপরের দিকে থাকে ঘড়ি। আপনার আদরের ভাই বা দাদাকে তাঁর পছন্দের ঘড়ি কিনে দিন। সময়কে বেঁধে রাখা যায় না ঠিকই। কিন্তু হাতে বাঁধা ঘড়ি আপনার কথা মনে করিয়ে দেবে নিশ্চিত।
পোশাক: পুজোর আগেই আপনি দাদাকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। পরিচিত পাজামি পাঞ্জাবি হোক বা শার্ট প্যান্ট অথবা আধুনিক ডিজাইনের কুর্তা, হারেম প্যান্ট— বয়স, ব্যক্তিত্ব, পেশা অনুযায়ী রাখির উপহার হিসেবে কিনে দিন।
আফটার শেভ কিট: সুগন্ধি প্রিয় সকলেই। দারুণ আফটার শেভের গন্ধে দিনভর ফুরফুরে মেজাজ থাকবে ভাইয়ের। রাখিতে আপনি গিফট করুন। সঙ্গে জুড়ে দিন অচেনা পারফিউম অথবা কোলন। যা তার ব্যক্তিত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
গ্যাজেট: মোবাইল হোক বা ট্যাব, স্পিকার হোক বা অটোমেটিক রেজার— আপনার দাদা বা ভাই গ্যাজেট প্রিয় হলে তাকে প্রয়োজনীয় গ্যাজেট সামগ্রী উপহার দিতে পারেন। গ্যাজেট মানেই তা যে সবসময় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে, তা নয়। বুকমার্ক লাইটের মতো ট্রেন্ডি জিনিসও উপহার দিতে পারেন।
দু’জনের উপহার
বই: যে কোনও বয়সের মানুষকে উপহার হিসেবে বই দেওয়া যেতে পারে। কোন ধরনের বই পছন্দ, সেটা জেনে নিন। অথবা পড়া বই, অথচ সংগ্রহে নেই, এমন কোনও ক্লাসিকের সম্পূর্ণ খণ্ডও কিনে দিতে পারেন। ফলে আপনারা দু’তরফেই বই উপহারের তালিকায় রাখতে পারেন।
ফোটো স্ট্যান্ড: রাখি তো আসলে বেঁধে বেঁধে থাকার বার্তা দেয়। আপনাদের হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলা ফিরিয়ে দিতে পারে, এমন উপহার দিলে ক্ষতি কী? পুরনো অ্যালবাম থেকে একটা ছবি বেছে নিন। এরপর আধুনিক বা অ্যান্টিক ডিজাইনের কোনও ফোটো স্ট্যান্ডে সেটা জুড়ে দিন। রাখির দিন আড্ডা, গল্প, উপহারে ফিরে আসবে ছোটবেলার কয়েক মুহূর্ত।
ম্যাগনেট: নতুন কোনও জায়গায় বেড়াতে গেলে অনেকেরই ম্যাগনেট সংগ্রহের নেশা থাকে। কেউ বা শহরের মধ্যেই নানা ধরনের ম্যাগনেট খোঁজেন। যে ম্যাগনেট কোনও গল্প বলে। ফ্রিজ হোক বা আলমারি— সেজে ওঠে ম্যাগনেটের আবরণে। ভাই বা দিদির কেমন পছন্দ বা কোনটা তাঁর সংগ্রহে নেই, সেটা আগে জেনে নিন। তারপর অনলাইন অর্ডার করুন অথবা অফলাইনে কিনে ফেলুন পছন্দের উপহার।
কফি মাগ: বাঙালির চা, কফির নেশা তো বিশ্বজনবিদিত। রকমারি কফি মাগ অনেকে পছন্দ করেন। অফিস ডেস্কেও নিজস্ব কফির কাপ সাজিয়ে রাখেন অনেকে। কারও একরঙা কাপ পছন্দ। কেউ বা কাপের উপর নিজের বা প্রিয়জনের ছবি প্রিন্ট করিয়ে নেন। রাখির দিন একে অপরকে উপহার দেওয়ার জন্য কফি মাগ আদর্শ।
গাছ: বাড়িতে বাগান করার জায়গা থাকলে গাছের চারা উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এমনকী একচিলতে বারান্দা বা ছাদেও অনেকে বাগান করেন। সেক্ষেত্রে অল্প যত্নে বেঁচে থাকবে, এমন গাছ উপহার দিন। সবুজ বাড়লে এই পৃথিবীর সকলের জন্যই আরামের হবে।
পেন, মোবাইল স্ট্যান্ড: মোবাইল তো এখন সর্বক্ষণের সঙ্গী। কিন্তু তারও যে বিশ্রাম প্রয়োজন। ইদানীং ট্রেন্ডি ডিজাইনের মোবাইল স্ট্যান্ড পাওয়া যায়। রাখির উপহারের সাজেশনে সেটা রাখতে পারেন। আর চিরাচরিত পেন স্ট্যান্ড তো সকলেরই প্রয়োজন হয়। কোনওটা বাঁশের কাজ, কোনওটা বা প্রিন্টেড কাপড়ে তৈরি। রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী বেছে উপহার দিন।
হাতে তৈরি উপহার: কবি লিখেছেন, ‘নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা’। উপহারের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই একথা সত্যি। নিজে হাতে যা তৈরি করে দেবেন, উপহার হিসেবে তা অমূল্য। সে কোনও খাবার হতে পারে। হতে পারে পোশাকের উপর ফেব্রিক। অথবা বিডসের গয়না। একটা সার্ভিং ট্রে-তে নকশা করে ফেলতে পারেন। অথবা হ্যান্ডমেড চকোলেট বা সাবান। আপনার শৈল্পিক সত্তার প্রকাশ হবে যেখানে, তা আজীবন যত্ন করে রাখবেন প্রিয়জন।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য