Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত আপাতত কমবে, আগামী সপ্তাহেই ফের নিম্নচাপের আশঙ্কা

আগামী সপ্তাহে, ২৪-২৫ জুলাইয়ের পর দক্ষিণবঙ্গের উপর ফের একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে চলেছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গে একের পর নিম্নচাপ আসার ফলে এবার বৃষ্টিপাত খুব বেশি হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত আপাতত কমবে, আগামী সপ্তাহেই ফের নিম্নচাপের আশঙ্কা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী সপ্তাহে, ২৪-২৫ জুলাইয়ের পর দক্ষিণবঙ্গের উপর ফের একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে চলেছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গে একের পর নিম্নচাপ আসার ফলে এবার বৃষ্টিপাত খুব বেশি হচ্ছে। বন্যাপরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। পূর্ববর্তী বেশিরভাগ নিম্নচাপের মতো এটির গতিপথ অনেকটা একই থাকবে। মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এটি দক্ষিণবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা হয়ে ঝাড়খণ্ড পেরিয়ে ছত্তিশগড়ের দিকে যেতে পারে। শক্তিবৃদ্ধি করে এটিরও গভীর নিম্নচাপ হওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা থাকছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ২৪-২৫ এপ্রিল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি সৃষ্টি হবে। এটি এগবে অগ্রসর হবে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে। 

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গে আপাতত আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির মাত্রা কম থাকবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বাড়বে। ১৯-২৩ জুলাই উত্তরবঙ্গে বেশি বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। এইসময়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২০ জুলাই রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার কোনও কোনও স্থানে অতিবৃষ্টির কারণে ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানান, অনেকদিন পর উত্তরবঙ্গের উপর মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় হতে চলেছে। এই কারণে সেখানে বৃষ্টি বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েকদিন স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে হাল্কা কিংবা মাঝারি বৃষ্টি হবে। এবার উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগে মে মাসের শেষে বর্ষার প্রবেশ হয়েছিল। কিন্তু মৌসুমি বায়ু সক্রিয় না-থাকা এবং দক্ষিণবঙ্গ হয়ে একাধিক নিম্নচাপ প্রবেশের কারণে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি খুব কম হয়েছে। গত কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা বেড়েছে। ১ জুন থেকে ১৬ জুলাই—মালদহ ও কালিম্পং ছাড়া উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। দার্জিলিং জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৪২ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ৪৬ শতাংশ, আলিপুরদুয়ারে ৫৬ শতাংশ, কোচবিহারে ৫০ শতাংশ, উত্তর দিানজপুরে ৫৯ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৩৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে মালদহে বৃষ্টি হয়েছে আবার স্বাভাবিকের থেকে ৪ শতাংশ বেশি। কালিম্পং জেলায় স্বাভাবিকের থেকে ১১ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও আবহাওয়াগত বিচারে এটাকে ঘাটতি হিসেবে ধরা হয় না। 
দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই এইসময়ে বৃষ্টির ঘাটতি নেই। মুর্শিদাবাদ ছাড়া সব জেলাতেই স্বাভাবিকের থেকে বেশিই বৃষ্টি হয়েছে। মুর্শিদাবাদে স্বাভাবিকের থেকে মাত্র ২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এটাকে ঘাটতি ধরা হচ্ছে না। পরিমাণের নিরিখে রাজ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি পেয়েছে বাঁকুড়া (৮৫২ মিমি)। এটা স্বাভাবিকের দ্বিগুণ! ‘খরাপ্রবণ’ হলেও পুরুলিয়া এবার বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে আছে। এখানেও স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে! নিম্নচাপগুলির গতিপ্রকৃতিই পশ্চিমাঞ্চলে বেশি বৃষ্টির কারণ। জানাচ্ছেন আবহাওয়া অধিকর্তা।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ