নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনস্বার্থের কথা ভেবে থমকে থাকা কাজ শুরু করতে রেল ও রাজ্যকে যৌথভাবে পদক্ষেপ করতে হবে, যাতে রাজ্যের মানুষ উপকৃত হন। ডায়মন্ডহারবারের গুরুদাসনগর থেকে বাখরাহাট পর্যন্ত রেল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার সূত্রে এমনটাই জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে চার মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নয় বছর আগে ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপর কাজ এক চুলও এগয়নি। একে কেন্দ্র করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, রেলের তরফে শুধু মাত্র ‘অ্যালাইনমেন্ট’ অর্থাৎ রেল পথ স্থাপনের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, কীভাবে কোন আইনে জমি অধিগ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারেও কোনও তথ্য দেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ।
যদিও রাজ্যে থমকে থাকা রেলপ্রকল্পগুলি নিয়ে আগেভাগেই রাজ্যকে দুষেছে রেল। ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়ে রেলমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, জমি অধিগ্রহণে রাজ্যের অসহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গে ৬০টিরও বেশি রেল প্রকল্প থমকে রয়েছে। এর মধ্যে ডায়মন্ডহারবার-বখরাহাট রেল প্রকল্পটিও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে রেলমন্ত্রী দাবি করেছেন, বর্তমানে রাজ্যে ৫০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রেল প্রকল্প খাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সবচেয়ে বেশি, ১১,৯৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। থমকে থাকা প্রকল্পগুলি চালু করার জন্য রেল জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়েও স্রেফ রাজ্যের অসহযোগিতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। এব্যাপারে রাজ্যের সাহায্য প্রয়োজন।
মামলায় সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, জনস্বার্থের কথা ভেবে রেল ও রাজ্যকে যৌথভাবে পদক্ষেপ করতে হবে, যাতে রাজ্যের মানুষ উপকৃত হন। এছাড়া এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে চার মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।