নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার ধ্বনি ভোটে রেল মন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দ (ডিমান্ডস ফর গ্রান্টস) পাশ করিয়ে নিল মোদি সরকার। যদিও লোকসভার ‘ওয়েলে’ নেমে বিরোধীরা বিক্ষোভে অটল থাকায় রেলমন্ত্রীর বক্তৃতা কিছুটা কাঁটছাঁট করতে হয়। এবং সভা মুলতুবি হয়ে যায় সারাদিনের জন্য। রেলমন্ত্রী যতক্ষণ জবাব দিলেন, পুরো সময়টাই বিরোধীরা চালিয়ে গেল সরকার বিরোধী স্লোগান। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজের বক্তব্যে বিরোধীদের সমালোচনা আর মোদি সরকারের সাফল্যের ঢাক পেটালেন। তবে তারই মধ্যে একপ্রকার মেনে নিলেন যে, কুম্ভমেলার সময় নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে ক্ষমতার অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি ভুল হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে যেসব অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস ও তৃণমূল, তার প্রায় সবই খণ্ডন করলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। বললেন, মোটেই জেনারেল কোচ কমেনি। ৫৬ হাজার জেনারেল আর স্লিপার কোচ রয়েছে। এসি কোচ রয়েছে ২৩ হাজার। আরও ৪ হাজার ১৬০টি স্লিপার এবং জেনারেল কোচ হবে। একইসঙ্গে সাধারণ যাত্রীর হাততালি কুড়োনোর লক্ষ্যে রেলমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ২০২০ সালের পর থেকে কিন্তু রেলের কোনও ভাড়া বাড়েনি।
রেলমন্ত্রী জবাবি ভাষণেও এবারের বাজেটে রেলের বরাদ্দে কী কী হবে, তা বলার যত না জোর দিলেন, তার চেয়ে বেশি তাঁর নজর ছিল বিরোধীদের সমালোচনা। এমনকী দুর্ঘটনার ইস্যুতেও টানলেন লালুপ্রসাদ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়্গের রেলমন্ত্রী থাকার সময়কালকে। বললেন, লালুজির সময়ে দুর্ঘটনা এবং লাইনচ্যূতর ঘটনা ঘটেছে ৭০০। মমতাজির সময় ৩৯৫। খাড়্গেজির সময় ৩৮১। আর মোদি জমানায় মাত্র ৭৩। তারপরেও বিরোধীরা কী করে সমালোচনা করেন? বিক্ষোভ না দেখিয়ে মোদি সরকারের জন্য হাততালি দিন।