সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন উন্নয়নমূলক কাজের নামে লাগাতার ব্লক নিয়ে চলেছে। কোভিডের পর থেকে একইভাবে ব্লক নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছেই। যার জেরে বছরের পর বছর ধরে ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়েছে। ফি সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহেও রেল রোলিং ব্লক নেওয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রকের তরফে সপ্তাহ জুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, টিআরডি ও সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ সমূহের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হবে। তাই আজ, সোমবার থেকে ১৫ মার্চ রবিবার পর্যন্ত রোলিং ব্লক নেওয়া হয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ৬৮০৭৭/৬৮০৭৮ (আদ্রা–ভাগা) মেমু প্যাসেঞ্জার ৯ থেকে ১১ মার্চ এবং ১৫ মার্চ বাতিল থাকবে। অন্যদিকে, ৬৮০৯০/৬৮০৮৯ (আদ্রা–মেদনীপুর) মেমু প্যাসেঞ্জার ১০, ১৩ ও ১৫ মার্চ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮০১৯/১৮০২০ (ঝাড়গ্রাম–ধানবাদ) মেমু দৈনিক এক্সপ্রেস ১০ মার্চ পরিষেবা বাতিল থাকবে। এবং ৬৮০৭৯ / ৬৮০৮০ (ভোজুডি - চন্দ্রপুরা) মেমু ১০, ১৩ এবং ১৫ মার্চ বাতিল থাকবে।
বাতিলের পাশাপাশি দু’জোড়া ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৩৫০৩/১৩৫০৪ (বর্ধমান–হাটিয়া) মেমু এক্সপ্রেস ১০ মার্চ গোমোতে আংশিকভাবে সমাপ্ত/সূচনা হবে। ওইদিন গোমো–হাটিয়া অংশে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ৬৮০৫৬/৬৮০৬০ (টাটানগর–আসানসোল-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ১০ মার্চ আদ্রায় আংশিকভাবে সমাপ্ত/সূচনা হবে। ওইদিন আদ্রা–আসানসোল অংশে পরিষেবা বাতিল থাকবে।
এছাড়া কিছু ট্রেনের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। যার মধ্যে ১৮০৩৬ (হাটিয়া- খড়গপুর) ১০ ও ১১ মার্চ হাটিয়া থেকে ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে। ৬৩৫৯১ (বোকারো–আসানসোল) মেমু প্যাসেঞ্জার ৯ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বোকারো থেকে ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে। এবং ১৮০২০ (ধানবাদ–ঝাড়গ্রাম) মেমু ৯, ১১,১২,১৩ ও ১৫ মার্চ প্রতিদিন ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে।
যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমানে রঘুনাথপুর থেকে আসানসোল, বরাকর রাজ্য সড়ক বেহাল। খড়গপুর শাখায় এমনিতেই ট্রেনের সংখ্যা কম। তারপরে রেলের পরিষেবাও তলানিতে পৌঁছেছে। আদ্রা ডিভিশনের এক রেল আধিকারিক বলেন, যাত্রীরা যাতে অসুবিধায় না পড়েন তাই আগাম প্রতিটি স্টেশনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রোলিং ব্লক সম্পর্কে জানানো হয়েছে। যাত্রী সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই রেলের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়।