• বলিউডে অ্যাকশন ছবির বাজার বরাবরই ভালো। বিশেষ করে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের শাসন দেখতে কে না ভালোবাসেন? আসলে বাস্তবে যা খুব কম ঘটে, তা পর্দায় ঘটলে সাধারণ মানুষের মনে খানিকের জন্য হলেও স্বস্তি আসে। সেকথা মাথায় রেখেই ‘রেইড’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ফেরত এসেছে ২০১৮-র পর। প্রথম ছবি হিট হলে, সিক্যুয়েলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রেও অন্যথা ঘটেনি। প্রথম ছবির পরিচালক রাজ কুমার গুপ্তা এবারও ছবির মূল কাণ্ডারি, আর ‘ইনকাম ট্যাক্স রেইড’ অফিসারের চরিত্রে অময় পট্টনায়ক অর্থাৎ অজয় দেবগণের প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন। প্রথম ছবির ভিলেন রমেশ্বর সিং বা তাউজিও (সৌরভ শুক্লা) ফিরেছেন। তবে আগেরবার অময়ের হাতে ধরা পড়ে এখন সে জেলের বাসিন্দা।
এবারের গল্প রাজস্থানের ভোজ শহরের প্রেক্ষাপটে। অময়ের মুখোমুখি নতুন ভিলেন। তার ধরন বেশ আলাদা। মনোহর ধনকর ওরফে দাদাভাই (রীতেশ দেশমুখ) সাধারণ মানুষের চোখে ভিলেন তো নয়ই, বরং ঈশ্বর সমতুল্য। তার রাজ্যে প্রজারা সুখে আছে। কারণ দাদাভাই সমস্ত বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ায়। মাতৃভক্ত মনোহর রোজ মন্দিরে যায় এবং নিজের মায়ের পুজো করে। এহেন দাদাভাইয়ের দুষ্কর্মের কারবার কীভাবে উন্মোচন করবে সৎ ‘আই টি আর’ অফিসার?
প্রথম ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করলেও এবারের গল্প বিশেষ জোরদার নয়। খামতি রয়েছে চিত্রনাট্যেও। আগের ছবির মতো অময়ের জোশ এই ছবিতে নেই। কোথাও যেন ক্লান্তির ছাপ রয়েছে। অনায়াসে বানী কাপুরের চরিত্র আর খানকয়েক গান বাদ দেওয়া যেত। তামান্না ভাটিয়ার আইটেম সং বাদ গেলেও ক্ষতি ছিল না। যদিও তাঁর উপস্থিতি খুবই উজ্জ্বল।
ছবির দ্বিতীয়ার্ধ বেশি টানটান। সৌরভ শুক্লা, অমিত সিয়াল ও সুপ্রিয়া পাঠকের অভিনয় ভালো। অজয় তাঁর বয়স লুকিয়ে রাখেননি। তবে সবচেয়ে শক্তিশালী রীতেশের অভিনয়। শান্ত, বাইরে সদা হাস্যমুখ অথচ চোখদুটো ঈগলের মত হিংস্র – ছবির লেখকেরা তাঁর চরিত্রটা আরও একটু মন দিয়ে লিখলে এই ছবির তিনিই একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারতেন।
দেবত্রী ঘোষ