নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিদিনের জমা হওয়া আবর্জনা সংগ্রহ করতে সকালে বাঁশি বাজিয়ে তিনচাকার ভ্যান নিয়ে বাড়ি বাড়ি আসেন ‘নির্মলবন্ধু’। বহু এলাকায় এই কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না বা গাফিলতি হচ্ছে—এমন অভিযোগ ওঠে মাঝেমধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে আবার বাসিন্দারাই ভ্যানে আবর্জনা না দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন। এসব কারণে সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এলাকা সবসময় সাফসুতরো রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ছড়াচ্ছে দূষণও। এবার এই অবস্থার পরিবর্তন হতে চলেছে। কারণ, এই কাজে নজরদারি চালাতে কিউআর কোডের মাধ্যমে ‘রিয়েল টাইম মনিটরিং’-এর পথে হাঁটছে রাজ্য। প্রতিটি বাড়ি ও দোকানের দরজায় একটি করে কিউআর কোড সেঁটে দেওয়া হবে। আবর্জনা সংগ্রহের পর সুপারভাইজাররা (নির্মল সাথী) তাঁদের মোবাইলে থাকা বিশেষ অ্যাপে এই কিউআর কোড স্ক্যান করে বর্জ্য সংগ্রহের রিপোর্ট ‘আপলোড’ করবেন। এই কাজ না করলে পোর্টালের ড্যাশবোর্ডে এই বাড়িগুলির জায়গায় লাল আলো ‘ব্লিঙ্ক’ করবে। সংশ্লিষ্ট পুরসভার নজরে আসবে বিষয়টি। রিপোর্ট ‘আপলোড’ হলেই গৃহস্থের নামের পাশে সবুজ হয়ে যাবে। ফলে খুব সহজেই জানা যাবে, কোনও নির্দিষ্ট বাড়ি বা দোকান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ হয়েছে কি না।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের ১২৮টি পুরসভাতেই অত্যাধুনিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই কারণে যথাযথভাবে বর্জ্য সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দিতে এই পদক্ষেপ করেছে রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীনস্ত স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সুডা)। এই ব্যবস্থাপনাকে বলা হচ্ছে ‘রিয়েল টাইম মনিটরিং অব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’। এর জন্য বর্জ্য সংগ্রহকারী গাড়িগুলিতেও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। সেক্ষেত্রে কোন কোন এলাকা দিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি গিয়েছে, তা পুরসভায় বসেই কম্পিউটারে দেখতে পাবেন আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে বসিরহাট পুরসভায় এই কিউআর কোড ব্যবহারের ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু হয়েছে। সাফল্য মিললেই পর্যায়ক্রমে রাজ্যের প্রতিটি পুর এলাকায় চালু করা হবে এই পদ্ধতি। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এসেছে। এগুলি ব্যবহার করে মানুষকে আরও উন্নত পরিষেবা দিতে চায় রাজ্য সরকার।
তবে এই ব্যবস্থা চালুর আগে, বর্তমানে একটি বিশেষ সমীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে প্রতিটি পুরসভায়। একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে মূলত বাজার এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির প্রতিদিনের বর্জ্য উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য ‘স্বচ্ছসাথী’ পোর্টালে তোলার কাজ চলছে। বাজারের দোকানপাটের পাশাপাশি এবং পৃথক ও অস্থায়ী দোকানের তথ্যও নেওয়া হচ্ছে। দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশ নিয়ে করা হচ্ছে জিও ট্যাগিং। এসব তথ্য ব্যবহার করেই কিউআর কোড তৈরি হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।