Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রীতি মেনেই চারদিন ধরে পুজো সুইডেনে

বাঙালির হৃদয়ের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে সুইডেনের স্টকহোমেও। পুজোর মূল উদ্যোক্তা প্রবাসী বাঙালি। তাঁদের কারও বাড়ি বারাসতে, কেউ কলকাতার কোনও অঞ্চলের বাসিন্দা। তাঁরা এখন পুজোয় পরবেন বলে শাড়ি বা পাঞ্জাবি কিনছেন। প্রত্যেকেই ফিরে যেতে চাইছেন পুরানো দিনে।

রীতি মেনেই চারদিন  ধরে পুজো সুইডেনে
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বাঙালির হৃদয়ের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে সুইডেনের স্টকহোমেও। পুজোর মূল উদ্যোক্তা প্রবাসী বাঙালি। তাঁদের কারও বাড়ি বারাসতে, কেউ কলকাতার কোনও অঞ্চলের বাসিন্দা। তাঁরা এখন পুজোয় পরবেন বলে শাড়ি বা পাঞ্জাবি কিনছেন। প্রত্যেকেই ফিরে যেতে চাইছেন পুরানো দিনে। 

Advertisement

বাঙালির হৃদয়ে দুর্গাপুজো মানেই উচ্ছ্বাস। সেই আবেগকে প্রতিবারই নতুন মাত্রা দেয় সুইডেনের স্টকহোম পুজো কাউন্সিল। সুইডেনের রাজধানীতে একাধিক দুর্গাপুজো হলেও তাদের পুজোর পরিচিতি একটু অন্যরকম। রীতি নিয়ম মেনেই পুজো হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত নিয়ম-রীতি পালন করেন উদ্যোক্তারা। ভিন দেশে সাধারণত কর্মব্যস্ততার কারণে সপ্তাহান্তে দুর্গাপুজোর চল আছে। লন্ডন, আমেরিকা কিংবা ইউরোপের বহু শহরে দুর্গাপুজো সাধারণত উইক এন্ডে হয়। স্টকহোমেও একসময় এই রীতি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্টকহোম পুজো কাউন্সিল সেই প্রথা বদলায়। তারপর দুর্গাপুজো আর কেবল একটা প্রবাসী আয়োজন নয়, বরং হয়ে ওঠে দেশের মাটির এক টুকরো ছায়া। এবছর পুজো হবে তিথি মেনে ২৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১, ২ অক্টোবর। স্টকহোমের কমিটিতে রয়েছেন ১২ সদস্য। তাদের কেউ চিকিৎসক, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ সরকারি চাকুরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ী। কিন্তু পেশাগত ব্যস্ততা পেছনে ফেলে পুজোর ক’দিন তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্র হন। চারদিন ধরে ছুটি, ফিরে পান দেশের সংস্কৃতি। পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা দেবযানী দে বলেন, ‘আমাদের এখানে চালু আছে কুমারী পুজো, কুষ্মাণ্ড বলি, সন্ধিপুজো থেকে সিদুরখেলা। আগস্ট মাসে কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা পৌঁছেছে জলপথে। পুজো করবেন এক দক্ষিণ ভারতীয় পুরোহিত। উনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয়ে যায় নিরামিষ খাওয়া। আরতি, ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। তবে দশমীর দিনের অনুষ্ঠান দেখে প্রবাসীরা অবাক হয়ে যান। মায়ের মূর্তি আয়নায় দেখার জন্য বহু মানুষের ভিড় জমে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা সুইডেনে জন্মেছে। কিন্তু আমরা চাই ওরা যেন জানে দুর্গাপুজো কেবল ধর্মীয় নয়, এটি সংস্কৃতির উৎসব, আবেগের। প্রতিবছরের মতোই ভারতের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের উচ্চপদস্থকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।’ আর এক উদ্যোক্তা ইলোরা গুহর কথায়, ‘পুজোয় অংশ নেন শুধু বাঙালিরা তেমনটা নয়। অনান্য প্রবাসীরাও ভিড় জমান দেবী দর্শনে। একেবারে আন্তর্জাতিক আবহে মিলেমিশে যায় দুর্গোৎসবের আনন্দ। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুজো করা হয়। তাছাড়া বিজয়া সম্মিলনী ও দীপাবলি হবে ধুমধাম করে। আমরা এই কটা দিনের জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ