শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীপুজোর দিন সকালে ঠাকুর দেখার ভিড়। কিন্ত বিকেলের পর বদলে গেল ছবি। সন্ধ্যার পর কালীর পুজো শুরু হল সব জায়গায়। ফলে প্যান্ডেলে ঢোকার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি। তাই মানুষ আলো, থিমসজ্জা এবং প্যান্ডেল দেখলেন। মূল ভিড় আবার হবে আজ, মঙ্গলবার। সবমিলিয়ে কালীপুজোর দিন বারাসতে সেই চিরকালীন ছবি।
বারাসতের পুজো কেএনসি রেজিমেন্টের অন্যতম কর্মকর্তা অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পুজোর দিন মানুষ শুধু আমাদের আলো আর মণ্ডপ দেখেছেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বেড়েছে। এবার এটা নতুন নয়। প্রতিবারই কালীপুজোর দিন তুলনামূলকভাবে ভিড় কম থাকে।’ নবপল্লি আমরা সবাই পুজো কমিটির অরুণ ভৌমিক বলেন, ‘কালীপুজোর রীতি ও রেওয়াজের জন্য সন্ধ্যার দিকে মানুষের ভিড় কম দেখা যায়। আগামী ক’টা দিন ভিড় উপচে পড়বে।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী সন্দীপ মিত্র ও সুবীর দে বলেন, ‘প্রতিবছরই কালীপুজোর দিন দর্শনার্থীদের ভিড় কম থাকে। প্রত্যেকেই পুজোয় মেতে থাকেন।’ বারাসত দক্ষিণপাড়া যুব গোষ্ঠী ক্লাবের কালীপুজোয় এবার হয়েছে সাবেক ঢঙের মণ্ডপ। সামঞ্জস্য রেখেই হয়েছে প্রতিমা। পুজোর কর্মকর্তা অসীম মুখোপাধ্যায় ও তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুজোর দিন রাতের পর ভিড় জমে।’ বারাসত ও মধ্যমগ্রামে একাধিক বড় পুজো ঘিরে চলছে রকমারি থিমের প্রতিযোগিতা। থিম, আলো দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বারাসতের মণ্ডপগুলি একটি করে আলাদা গল্প বলে। সে গল্প দেখতে, পড়তে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার চোখে কৌতূহল এবং উত্তেজনা। একইভাবে মধ্যমগ্রামের প্যান্ডেলগুলিতেও উৎসব আরও বর্ণিল। এবার অমাবস্যা শুরু হয়েছে দেরিতে। অনেকে উপোস করে রাত পর্যন্ত জেগে শক্তির আরাধনা করেন। সোমবার মানুষ মূলত মন দিয়েছিল পুজোয়।
বারাসতের বড়মা, নওপাড়ার পুরাতন কালীবাড়ি, আমডাঙার করুণাময়ী, রঘু ডাকাতের কালীবাড়ি সহ বিভিন্ন মন্দিরে মানুষের পুজো দেওয়ার ছিল লম্বা লাইন। কেউ দিয়েছেন অঞ্জলি। কেউ দণ্ডি কেটেছেন। তবে থিমের পুজোয় এবার দর্শকরা মূল প্রতিমা দেখার সৌভাগ্য পাননি। প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় তারা আলোর মাধ্যমে পুজোর আনন্দ অনুভব করেছেন। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা শুধু আলোর খেলা নয়, শহরের প্রাণবন্ত সংস্কৃতিও উপভোগ করেছেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, হাসিখুশি ভাগাভাগি করা, সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা আরও রঙিন এ বছর।