


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কোনও ছুতোতেই ফেলে রাখা যাবে না উন্নয়নের কাজ। প্রশাসনিক থেকে শুরু করে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানের একাধিক মঞ্চ থেকে এই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৃণমূলস্তর পর্যন্ত উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যেই আরও একটি পদক্ষেপ করল রাজ্য। ঠিক হয়েছে, এবার থেকে সরকারি ছুটির অজুহাতে আর থমকে থাকবে না প্রকল্পের আর্থিক ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ। তাই পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে জেলাশাসক পর্যন্ত সব কর্তা, আধিকারিককে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা ছাড়ার ক্ষমতা দিল রাজ্য। ফলে অফিসে উপস্থিত না থাকলেও দেওয়া যাবে প্রকল্পের খরচ বাবদ বরাদ্দের অনুমোদন।
এবিষয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোনও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
এর আগে ১ এপ্রিল ‘সহজ সরল’ পোর্টাল চালু করে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে লেনদেনের ক্ষেত্রে হাতে লেখা রশিদে দাঁড়ি টেনেছে নবান্ন। এবার ‘সহজ সরল’ মোবাইল অ্যাপ চালু করছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এই অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে বিডিও এবং জেলা পরিষদ স্তরে জেলাশাসক বা এডিএম (জেলা পরিষদ) প্রকল্পের টাকা ছাড়ার অনুমোদন দিতে পারবেন।
এতদিন কোনও প্রকল্পের টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে ‘পাস ফর পেমেন্ট’ এবং ‘ভাউচার’ সংক্রান্ত কাজকর্ম করতে হতো অফিসে বসে। ফলে ছুটি থাকলে সেই কাজ করার কোনও সুযোগই থাকত না। অনেক ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ইচ্ছা থাকলেও, অফিস ছুটি থাকার কারণে তাঁরা টাকা ছাড়ার অনুমোদন দিতে পারতেন না। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকলেও তার চাপে প্রকল্পের টাকা ছাড়ার কাজ বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যেত।
এদিকে, বছর পেরলেই রাজ্য বিধানসভার ভোট। ফলে এই এক বছরে কাজের বহর বাড়বে। কিন্তু টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে একদিন দেরিও প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই পঞ্চায়েত দপ্তরের এই উদ্যোগে গ্রামীণ এলাকার কাজে আরও গতি আসবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করেছে রাজ্য। সেটি মঙ্গলবারই পাঠানো হয়েছে জেলায় জেলায়। এই এসওপি অনুযায়ী, যেহেতু একটি অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাজ হবে, তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথাও মাথায় রাখতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। ঠিক হয়েছে, একমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তা-আধিকারিকদের নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি ব্যবহার করেই ঢোকা যাবে এই অ্যাপে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই তাঁর দেওয়া সমস্ত ছাড়পত্রের তথ্যও দেখতে পাবেন কোনও আধিকারিক। কতগুলি পেমেন্টের অনুমোদন তারা এখনও দেননি, সেই তথ্যও থাকবে অ্যাপে।